নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের ভায়াবহ সংঘর্ষ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে শুরু হওয়া এ উত্তেজনা বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লাবিবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদের অনুসারীদের সঙ্গে সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারী রাশেদুল হাসান রাতুলের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষ অগ্নিবীণা হলের সামনে জড়ো হলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের কয়েকজন কর্মীকে দেশীয় অস্ত্র হাতে অগ্নিবীণা ও বিদ্রোহী হলের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান নিতে দেখা যায়। মধ্যরাতে এক পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অগ্নিবীণা হল থেকে বিদ্রোহী হলের দিকে ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের আগে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অনুসারীদের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। আহ্বায়ক পক্ষের দাবি, ওই মিছিল বানচাল করতে অপর পক্ষের কয়েকজন কর্মী উসকানি দিয়েছিলেন।
ঘটনা সম্পর্কে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, ঘটনার শুরুতে তিনি ক্যাম্পাসে ছিলেন না। পরে খবর পেয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। ক্যাম্পাসে মারামারি বা অরাজকতা কোনোভাবেই কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো পক্ষ নিজেদের স্বার্থে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদ বলেন, ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো অনুসারী যাতে অনুপ্রবেশ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ক্যাম্পাসে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রক্টরিয়াল টিম যাওয়ার পর তা নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রধান প্রবেশদ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের ইনচার্জ জুলফিকার আলী জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
