দ্রুত বিচার করতে নতুন ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচারকাজে গতি আনতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে ২২টি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছে সরকার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৪ক ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের স্থানীয় এখতিয়ার ও সীমানাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাগুলো বর্তমান আদালত থেকে নবগঠিত ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে।
মামলাগুলো যে পর্যায়ে রয়েছে, সেই পর্যায় থেকেই সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ শুরু হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব এলাকায় ট্রাইব্যুনাল
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা জেলার জন্য একটি এবং ঢাকা মহানগরের থানাগুলোর জন্য চারটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর-১-এর আওতায় রয়েছে পল্লবী, কাফরুল, মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, রূপনগর, ভাষানটেক, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল, শেরেবাংলা নগর, রমনা ও শাহবাগ থানা।
ঢাকা মহানগর-২-এর অধীনে রয়েছে কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, আদাবর, কোতোয়ালি, বংশাল, চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানা।
ঢাকা মহানগর-৩-এর আওতায় রয়েছে মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী ও ওয়ারী থানা।
ঢাকা মহানগর-৪-এর অধীনে রয়েছে উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, তুরাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ভাটারা, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত থানা।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে দুটি, চট্টগ্রাম জেলায় একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরে তিনটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
মাদকপ্রবণ সীমান্ত এলাকা কক্সবাজারে তিনটি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করা হয়েছে। কক্সবাজার-১-এর আওতায় রয়েছে টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী; কক্সবাজার-২-এর অধীনে উখিয়া, সদর ও ঈদগাঁও এবং কক্সবাজার-৩-এর আওতায় রয়েছে রামু, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী।
এ ছাড়া কুমিল্লায় দুটি ট্রাইব্যুনাল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী জেলা, রাজশাহী মহানগর, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোর জেলার জন্য একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগের ফলে মাদকসংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো নির্দিষ্ট ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
