স্বাস্থ্যখাত
শৃঙ্খলা ফিরবে কোন ওষুধে
সেবিকা দেবনাথ
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশৃঙ্খল স্বাস্থ্যবিভাগের শৃঙ্খলা ফেরাতে সব সরকারই দায়িত্ব নেয়ার পর তোড়জোড় করে বেশ কিছু উদ্যোগ নেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তাতে ভাটা পড়ে। সব উদ্যোগ ব্যর্থ করে দিয়ে পুরানো বৃত্তেই যেন ফিরে আসে। ফলে কোন সুফল মেলে না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেকেই আশা করেছিলেন, এ খাতে এবার হয়তো কিছুটা উন্নতি হবে। কিন্তু তা হয়নি, উল্টো চরম বিশৃঙ্খলা ও স্থবিরতা তৈরি হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে বিএনপি সরকার গঠনের পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় ডা. এম এ মুহিতকে। দায়িত্ব নেয়ার পরই একটি আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, সেবার পরিধি সম্প্রসারণ এবং জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন তারা। সেই অনুযায়ী কাজও শুরু করেন।
১৯ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকরা ঠিক মতো সেবা দিচ্ছেন কি না- তা সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা দিয়েই মাঠে নেমে পড়েন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কয়েকটি এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল হঠাৎ পরিদর্শনে যান। হাসপাতালের চরম বিশৃঙ্খলা, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং ভুয়া ছুটি, অব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশসহ নানা অসংগতি ও অনিয়ম তাদের চোখে ধরা পড়ে। এখানেই শেষ নয়। অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন। বেশ কিছু অভিযানে কয়েকটি হাসপাতাল সিলগালাও করা হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগ অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়ে।
সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের অবকাঠামোগত ত্রুটি, প্রতিষ্ঠানের ৮ম তলায় বেকারির সন্ধান পাওয়া এবং রংপুর বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অন্তত ২০ জন চিকিৎসকের বছরের পর বছর ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি সামনে আসায় স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে জনবল ও নজরদারির অভাবে সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগ ভেস্তে যায় বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
রংপুরের বিভিন্ন হাসপাতালের ২০ চিকিৎসক বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত
রংপুর বিভাগের প্রতিনিধির পাঠানো রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অন্তত ২০ জন চিকিৎসক বছরের পর বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিনা অনুমতিতে তাদের কেউ বিদেশে বসবাস করছেন, কেউ বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখছেন, আবার কারোর অবস্থানই জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অথচ সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ২ মাসের বেশি অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতির কারণে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ওই চিকিৎসকরা কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন ৬ থেকে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। তাদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। ফলে সেই পদে নতুন চিকিৎসকও নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহেদুর রহমান ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি, ডা. আব্দুল কাদের তালুকদার একই বছরের ৫ মার্চ এবং ডা. আবু সাদাত মো. সায়েদ শরীফ ২৬ এপ্রিল থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। জানা যায়, ডা. আব্দুল কাদের তালুকদার বর্তমানে রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় তার মালিকানাধীন তালুকদার হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. আব্দুল কাদের তালুকদার বলেন, আমাকে দূরে বদলি করা হয়েছিল। পদোন্নতি দেয়া হয়নি। এজন্য আর সেখানে যাইনি। এখন সরকার চাইলে যে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে।
ডা. আবু সাদাত মো. সায়েদ শরীফ পাভেল প্রায় ৬ বছর আগে সপরিবারে কানাডায় চলে যান। ডা. শাহেদুর রহমানের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি বোদা উপজেলা হাসপাতাল ও পঞ্চগড় জেলা সিভিল সার্জন অফিস। কর্মস্থলে দেয়া তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এই ৩ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু তাদের কোনো খোঁজখবরও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবীর।
এদিকে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. অনন্যা রায় প্রায় ১০ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তিনি বর্তমানে পরিবারসহ জাপানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আ.ন.ম. কায়সার আনাম ৬ বছর ধরে কর্মস্থলে নেই। জানা যায়, তিনি বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান আসাদ প্রায় এক বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে ঢাকার সিকেডি ইউরোজলি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, পারিবারিক কারণে ঢাকায় আছেন। প্রয়োজন হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেবেন।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালেও দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন আরো অন্তত ১০ জন চিকিৎসক।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, বিভাগে প্রায় ২০ জন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসেনি। খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণের তথ্যই বলছে, প্রতিদিন অনুপস্থিত থাকেন গড়ে ৪৬ শতাংশ চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদের, পোহাতে হয় দুর্ভোগ। নিরুপায় হয়ে অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন।
বেসরকারি এক জরিপের তথ্য বলছে, গ্রামীণ এলাকার প্রায় ৪০ শতাংশ রোগী প্রথমবার হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক পান না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা অননুমোদিত চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের সময় ও অর্থ-দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর আস্থাও কমে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রাথমিক ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসক পদের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্মরত চিকিৎসকদের একটি অংশের অনিয়মিত উপস্থিতি, ফলে বাস্তবে চিকিৎসাসেবা আরো সীমিত হয়ে পড়ছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারীদের শাস্তি না হওয়ায় উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় একদিকে যেমন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তেমনি সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সংকট আরো গভীর হচ্ছে।
তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বারবারই বলছেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনে অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। যারা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকবেন না বা দায়িত্বে গাফিলতি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ৫ মার্চ অফিস চলাকালে সরকারি কোন চিকিৎসক বাইরে প্র্যাকটিস করলে তার লাইসেন্স স্থগিতসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কর্মস্থলে ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সারাদেশে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
লাইসেন্স পেয়ে পরবর্তীতে শর্তের কথা ভুলে যায় বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল; তথ্য জানায় না অধিদপ্তরকে
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককের লাইসেন্স পেতে বেশ কিছু শর্ত মানতে হয়। তবে সেই শর্তগুলো পরিপালনে নজরদারি না করে কেবল বড় ধরনের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে কিংবা কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই স্বাস্থ্য বিভাগকে তৎপর হতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখা সূত্রে জানা যায়, লাইসেন্স নিয়ে ১৯৮২ সাল থেকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে একবার লাইসেন্স নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান আর তা নবায়নে আগ্রহী হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠান শুরুতে ১০ বেডের অনুমোদন নিলেও পরে বেড বাড়ালে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানায়নি। অনেকে বেডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাড়ায়নি জনবল। ভবন সম্প্রসারণ করা হলেও তা জানায় না। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়েছে। হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের নির্মাণ ত্রুটি পেয়েছে তদন্ত কমিটি। রাখা হয়নি পর্যাপ্ত ভ্যান্টিলেশনের ব্যবস্থা। যা অধিদপ্তরের নজরে ছিল না।
চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথের (ডিপিপিএইচ) আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব ভোরের কাগজকে বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে যেখানে শিশুগুলো ছিল সেখানে ভ্যান্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভবনটির অবকাঠামোগত ত্রুটি আছে। হাসপাতালের উপরের তলায় বেকারির সন্ধানও মিলেছে। এগুলো তদারকি করা হয়নি। এই তদারকির দায় সরকারের।
তবে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ফাউন্ডেশনের মানবসম্পদ ও কোম্পানি বিষয়ক পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল দাবি করেন, হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের অষ্টম তলায় রোগীদের জন্য পাউরুটি ও বিভিন্ন বেকারি আইটেম তৈরি করা হলেও সেটি হাসপাতালের মূল ভবনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত নয়। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পাশাপাশি সংযুক্ত ৬ থেকে ৭টি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতাল ভবন, কলেজ ভবন এবং করপোরেট অফিস ভবন অন্তর্ভুক্ত। এসব ভবনে আলাদা আলাদা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রোগীদের খাবার প্রস্তুত থেকে শুরু করে অন্যান্য সেবা কার্যক্রম বিভিন্ন অংশে বিভক্তভাবে পরিচালিত হচ্ছে, এগুলো পরস্পর কার্যগতভাবে এক নয়। যে স্থানে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সেখানে বেকারি নেই বলে দাবি তার।
ঝিমিয়ে পড়েছে অবৈধ হাসপাতাল ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু করেছিল তা অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়, জনবল সংকটের কারণে অভিযান অব্যাহত রাখা সম্ভব হয় না। তবে অভিযোগ পেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রতিটি বড় অভিযোগের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে অস্থায়ীভাবে হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া ছাড়া তেমন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি অধিদপ্তরকে। আর প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান হলে তা-ও হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অভিযোগ উঠলে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া কিংবা সাময়িক তৎপরতার মধ্য দিয়ে স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে এ কথাও সত্য কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সরকারি অসংখ্যা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু এগুলো দেখাভালের জন্য যে লোকবল দরকার তা নেই।
অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব মনে করেন, সরকারি চিকিৎসাসেবায় ঘাটতির সুযোগ নিয়ে সারাদেশেই উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নিয়ম না মেনে শত শত হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চাহিদা বাড়ছে। এখন এই চাহিদার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি পর্যায়ে হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে উঠছে। সেবার মানসিকতার চেয়ে ব্যবসায়িক চিন্তা বড় হয়ে উঠছে। তাই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার লক্ষ্যটাই প্রধান্য পাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা যথাযথ নজরদারি কাঠামো তৈরি হয়নি। আবার নজরদারির জন্য তাদের প্রয়োজনীয় লোকবলও নেই। তাই সার্বিকভাবে বিষয়গুলোর দিকে নজর না দিয়ে শুধু অভিযান চালিয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী মনে করেন, এই অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একটা আলাদা উইং তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সারাবছরই যাতে মনিটরিং করা যায় সেখানে পর্যাপ্ত জনবল ও সুযোগসুবিধা দিতে হবে। এর পাশাপাশি মফস্বলে স্থানীয় প্রশাসনকেও এর সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের জবাবহিতার আওতায় আনতে হবে।
