ভয়ংকর হয়ে উঠছে ডেঙ্গু
আবদুল কাদের
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। অক্টোবরের প্রথম ছয় দিনে দেশে ১২ হাজার ৫৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন ৪৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোগীর চাপ বাড়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যার সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক হাসপাতালে মেঝেতে শয্যা পেতে ডেঙ্গু আক্রান্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই মাসে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন রোগী ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন ডেঙ্গুতে মারা যান।
এদিকে ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ২০০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৪৭, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ২১২ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ১৭১ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহে ১১০, রাজশাহীতে ১৭৬, রংপুরে ৩৮ এবং সিলেটে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার সকাল পর্যন্ত চলতি বছরে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২ হাজার ২১৬ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ২৮৯ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মিত বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রার ওঠানামা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পরিবেশদূষণসহ নানা কারণে এডিস মশার প্রজননস্থল বাড়ছে। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ায় গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের মৃত্যুও হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
নিপসমের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক গোলাম সারোয়ার বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যার ধারাবাহিকতা অক্টোবরের শুরুতেও দেখা যাচ্ছে। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এডিস মশার প্রজননস্থল বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধু শহরকেন্দ্রিক নেই; প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকারের প্রতিটি ইউনিটে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়ে শক্তিশালী মনিটরিং টিম গঠন এবং ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করে হটস্পট এলাকায় দক্ষ টিম মোতায়েন করা প্রয়োজন।
তবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ এমনটি মনে করেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের চেষ্টা করছে। হাসপাতালগুলোতে দিনরাত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ। রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগীর হৃদ্রোগজনিত সমস্যাও দেখা যাচ্ছে।
এ সময় বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে জন্মনিরোধক সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে এবং এটি ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।
