২০১৩ সালের চুক্তিতে হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে ভারত?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ভারত সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে ঢাকা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও রায় ঘোষণার পর ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
তবে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চুক্তি থাকলেও এর আওতায় ভারতকে শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। চুক্তির কয়েকটি ধারায় প্রত্যর্পণ না করার সুযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হলে সংশ্লিষ্ট দেশ প্রত্যর্পণের আবেদন নাকচ করতে পারে।
এই ধারার ভিত্তিতে ভারত চাইলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচনা করে তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আপত্তি জানাতে পারে।
এ ছাড়া চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদেও প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের কিছু কারণ উল্লেখ রয়েছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন থাকলে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে।
শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা এবং তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব প্রত্যর্পণ আইনেও কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা সাজানো মামলায় প্রত্যর্পণ ঠেকানোর সুযোগ রয়েছে।
আইনি বিষয়গুলোর পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনা ভারত সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতে তার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফলে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালেও ভারত তা কীভাবে বিবেচনা করবে, সেটি এখন দেশটির আইনি ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। চুক্তির বিভিন্ন ধারা দেখিয়ে ভারত প্রত্যর্পণ বিলম্বিত বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলেও বিশ্লেষণে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
