সীমান্তে টহল সমন্বয় ও তথ্য বিনিময়ে একমত বাংলাদেশ-ভারত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ অভিবাসন নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সীমান্তে যৌথ সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত ঢাকা-নয়াদিল্লি।
শুক্রবার (১২ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন বিজিবি-বিএসএফ।
তারা বলেছে, ‘সীমান্তে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানো এবং সমন্বিত টহল কার্যক্রম শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লি তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে এর মধ্যেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনে সীমান্তে অভিবাসীদের পুশ-ইন করার বিষয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ।
এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তে পুশ ইন নিয়ে নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষয়তায় আসার পর রাজ্য সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলেট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ তথা ‘শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কার’ নীতি হাতে নিয়েছে। এতে করে আরো উদ্বেগ বেড়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চার দিনব্যাপী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মকর্তারা এ বৈঠককে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ, ইতিবাচক এবং ভবিষ্যৎমুখী’ বলে উল্লেখ করেছেন। বৈঠকে অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত ও জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটি অন্যতম একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। এটি বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম সীমানা। এরমধ্যে ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় রয়েছে। তারা অবৈধ অভিবাসন নিয়ে সোচ্চার রয়েছে।
দলটির অভিযোগ, বহু বাংলাদেশি মুসলিম ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে বসবাস করছেন। গত বছর থেকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। অন্যদিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে ভারতকে এক ডজনের বেশি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।
বিজিবি বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোকে সীমান্তে বেশ কয়েকটি পুশ ইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং ড্রোন নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বাংলাদেশ বলছে, সীমান্তে পুশ ইন রোধে বিভিন্ন অংশে টহল জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে গত মাসে ভারত জানিয়েছে, অবৈধভাবে বসবাসকারী দুহাজার ৮৬০ জনের বেশি সন্দেহভাজনের জাতীয়তা যাচাইয়ের জন্য ঢাকার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্মেলনে মানবপাচার, সীমান্তে প্রাণহানি, চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে উভয় পক্ষ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি সমন্বিত টহল বৃদ্ধি, নজরদারি জোরদার, তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান বাড়াতে একমত হয়েছে।
আগামী নভেম্বরে ঢাকায় দুই বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
