নতুন ১২ জেলায় ই-জামিননামা চালু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ কমানো এবং জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তির প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে দেশের আরও ১২ জেলায় অনলাইন ই-বেইলবন্ড বা ই-জামিননামা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর ফলে দেশের মোট ২৮টি জেলায় এ কার্যক্রম চালু হলো। নতুন করে এ ব্যবস্থার আওতায় আসা জেলাগুলো হলো—টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজার, চাঁদপুর, রাঙামাটি, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও জামালপুর। এর আগে দেশের ১৬টি জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন ১২ জেলায় ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা এবং অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস বক্তব্য দেন। এ সময় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম এরশাদুল আলম, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রার্থী জনগণের হয়রানি কমিয়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন যুগোপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা এসব উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুন: ‘যেভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছি, সেভাবে শাহরানকে হত্যা করব’
তিনি জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি বেইলবন্ড দাখিল ও সম্পন্ন করতে ১২টি ধাপ অতিক্রম করতে হতো। নতুন অনলাইন ব্যবস্থায় সেই প্রক্রিয়া মাত্র দুই ধাপে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। আইনজীবীরা এখন তাদের চেম্বার বা যেকোনো স্থান থেকে স্মার্টফোন ব্যবহার করে অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিল করতে পারবেন।
বেইলবন্ড দাখিলের পর তা গ্রহণের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ওটিপির (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এতে জামিননামা দাখিলের পুরো প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে জানান মন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থার ফলে জামিনপ্রাপ্ত আসামি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। প্রচলিত ব্যবস্থায় কারাগার, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জেলা জজ আদালতে বারবার যাতায়াত করতে যে সময় ও অর্থ ব্যয় হতো, নতুন ব্যবস্থায় তা অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি বলেন, সরকার জনগণকে হয়রানি করতে চায় না; বরং আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
মন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ১৬টি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালুর পর গত কয়েক মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ড অনলাইনে দাখিল হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা এবং জনগণের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় নতুন করে আরও ১২টি জেলা এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিচারক, আইনজীবী ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো বন্দি কম্পাউন্ডেবল বা আপসযোগ্য মামলায় কারাগারে আটক থাকলে সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমার পাশাপাশি সরকারের বিপুল অর্থও সাশ্রয় হবে।
তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে ই-বেইলবন্ডের পাশাপাশি মেডিয়েশন ও লিগ্যাল এইডসহ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অন্যান্য ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার সংখ্যা কমানো এবং নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলায় মামলা কমানো ও নিষ্পত্তির হার বাড়াতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হবে, সেসব জেলার সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত বা পুরস্কৃত করার বিষয়েও আইন মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা করছে বলে জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ই-বেইলবন্ড, মেডিয়েশনসহ কার্যকর বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসা আরও শক্তিশালী হবে।
