তেহরানের দাবি
জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস ৩ মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তেহরান। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরানের দাবিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
আইআরজিসির দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানঘাঁটির রানওয়ে এবং রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। এতে তিনটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও তিনটি বিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, বুধবার রাতে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে ইরানের কেশম দ্বীপে ড্রোন স্থাপনা ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযানে আইআরজিসির ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, ইরান ও তাদের মিত্রদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার উদ্দেশ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, ‘ঘুমন্ত অবস্থায় নিরীহ পরিবারকে হত্যা করা বাহিনীর জন্য এই অঞ্চলে কোনো জায়গা নেই।’ একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, ইসলামিক ভূখণ্ড থেকে ‘শেষ মার্কিন দখলদার’ অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে পাঁচটি জর্ডানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ তথ্যও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি আরও জটিল আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, মেহর নিউজ, ফার্স নিউজ
