জীবন ঝুঁকিতে থাকলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো হবে না: মালয়েশিয়া
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমারে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির সরকার বলেছে, প্রত্যাবাসনের আগে প্রতিটি শরণার্থীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। জীবন ঝুঁকিতে থাকার আশঙ্কা থাকলে কাউকেই ফেরত পাঠানো হবে না।
গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা দেন, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এ ঘোষণার পর থেকেই সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
বুধবার (৫ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেন, মালয়েশিয়া একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র। যদি দেখা যায়, কাউকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠালে তিনি নির্যাতনের শিকার হতে পারেন বা তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তাহলে তাকে প্রত্যাবাসন করা হবে না। খবর এএফপির।
তিনি জানান, মিয়ানমারের সামরিক সরকার শরণার্থীদের গ্রহণে সম্মতি দিয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের আগে নির্ধারিত সব মানদণ্ড অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে। সব শর্ত সন্তোষজনক হলে তবেই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হবে।
ফাহমি ফাদজিল বলেন, জীবন ঝুঁকিতে থাকা কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো যাবে না। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় দিকগুলো পর্যালোচনা করছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে, যা দেশটির সবচেয়ে বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠী।
গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে শতাধিক রোহিঙ্গা জড়ো হওয়ার পর তাদের আটক করা হয়। উত্তরাঞ্চলের পেনাং রাজ্যের একটি অনানুষ্ঠানিক বসতি থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কায় তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
পরে তাদের কাছে বৈধ ইউএনএইচসিআর নিবন্ধনের কাগজপত্র পাওয়া গেলে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শরণার্থীদের তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাই শুরু করেছে।
এদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধান রোহিঙ্গা অধিকার সংগঠন সরকারকে এ পরিকল্পনা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গাদের জীবন আবারও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল হলেও মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয়। এছাড়া দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীর আইনি মর্যাদাও স্বীকৃতি দেয় না।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের সময় ব্যাপক নির্যাতনের মুখে লাখো রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের একটি বড় অংশ মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে।
সূত্র: এএফপি
