বাংলাদেশ আর কখনও নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ আর কখনও কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। তার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বড় অর্জন হলো দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ যেন ভবিষ্যতে আর কখনও কোনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে লক্ষ্যেই মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।
দুই বছর আগের পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থান করলেও তারা দেশে শিশু-কিশোরদের প্রাণহানি, দমন-পীড়ন এবং সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাগুলো গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তার মতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এভাবে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করা হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম অন্ধকার ও নৃশংস সময়।
তিনি আরও বলেন, সে সময় জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা সহিংসতা কমানো এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রাখে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে সময় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটানো- এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও সাম্প্রতিক নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল, বাংলাদেশ এখন তা পুনরুদ্ধার করছে।
তিনি আরও বলেন, নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত তিনটি লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তাদের আশঙ্কা করা অনেক বিষয়ই বাস্তবে ঘটেনি। ফলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আহত ও সেই সময়ের জীবন্ত সাক্ষীদের প্রতিও তিনি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের ত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
