স্কুলে এলোপাথাড়ি গুলি, শিক্ষকসহ ৭ জনের মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কাছাকাছি একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর চালানো বন্দুক হামলায় একজন শিক্ষকসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছে আরো অন্তত ১৫ জন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় ননথাবুরি প্রদেশের বাং কুরাই জেলার ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
হামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার কারণ এবং হামলার পেছনের উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আরো পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধটা খুব শিগগিরই শেষ হবে
ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের কর্মকর্তা দেচরাপি কংদি বলেন, ‘হামলাকারী প্রায় ১৪ বছর বয়সি নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তথ্য মতে, ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ভবনের তিন তলার একটি কক্ষ থেকে হঠাৎ গুলি ছোঁড়ে। কয়েক দফা তাণ্ডব চালানোর পর সে নিজেকে গুলিবদ্ধ করে আত্মহত্যা করে।
নিহত শিক্ষকের পাশাপাশি আহতদের তালিকায় আরো একজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
হঠাৎ গুলিবর্ষণের শব্দে পুরো প্রাঙ্গণে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। প্রাণ বাঁচাতে শিক্ষার্থীরা তড়িঘড়ি শ্রেণিকক্ষের ভেতর আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মীরা এসে সতর্কতার সঙ্গে তাদের নিরাপদে বের করে আনে।
ঘটনার পর পরই পুরো এলাকাটি কর্ডন করে নেয় পুলিশ। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় আলামত জব্দের পাশাপাশি হামলাকারী কিশোর কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পেল এবং তার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সহিংসতার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও উদঘাটিত হয়নি।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারে থাইল্যান্ড বেশ এগিয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে বন্দুক সহিংসতার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে একটি শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলায় ৩০ জনের বেশি প্রাণ হারানোর পর থেকেই দেশটির অস্ত্র আইন কঠোর করা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
