ট্রাম্প
‘ইরান খুব দুষ্ট, মার্কিনিদের একটু বেশি খরচ করতে হবে’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পরাজয় মেনে নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। ইরানকে ‘খুবই দুষ্ট’ দেশ আখ্যা দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের কিছুটা বেশি দামে পেট্রল কেনার বিষয়টি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়েও অগ্রগতি নেই। ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় শুরু হওয়া সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি কখন খোলা বা বন্ধ হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে। যুক্তরাষ্ট্র ‘পরাজয়ের বাস্তবতা’ মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
গারিবাবাদি আরও বলেন, কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরী, আদেশ জারি কিংবা নির্বাচনি বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করার বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। শনিবার ইরানের সংবাদমাধ্যম শাহরার নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও বাড়ছে। শুক্রবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি আরও বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৬ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ার পথে ছিল।
এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের পেট্রলের জন্য ‘সামান্য একটু বেশি’ অর্থ খরচের বিষয়টি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি এখন রাজনৈতিক ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলার—যা এক বছর আগের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি।
আরও পড়ুন: ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মোদির ৬ বড় ঘোষণা
পুনর্নির্বাচনী প্রচারে জ্বালানির দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি তাঁর প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপও তৈরি করছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেস নির্বাচনে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে ইস্যু করতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থানে থাকলেও যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত নয় ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মূল্যস্ফীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধ এবং তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অচলাবস্থা, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির অভাবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব এখন আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে।
