নৌকাডুবিতে শিশুসহ ৪৬ জনের মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
নাইজেরিয়ার সোকোটো প্রদেশে ভয়াবহ নৌকাডুবিতে শিশুসহ অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত স্থান থেকে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোটো প্রদেশে এই ঘটনা ঘটে। দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সেখানে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোকোটো প্রদেশে ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। তাদের বেশিরভাগই শিশু। দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে।
নাইজেরিয়ার পুলিশের মুখপাত্র আহমাদ রুফাই বলেন, ‘গোরোনি এলাকার গোরাউয়ের কাছে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১৫ জন।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো কঠিন। নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছেন।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘ধান কাটার কাজে যাওয়া কৃষিজমির মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে শিশুরাও যাচ্ছিল বলে তিনি ধারণা করছেন।’
আরো পড়ুন: রাজপথ থেকে রাষ্ট্রপতি, মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ইতিহাস
তিনি বলেন, ‘তারা প্রায় ৫০টি লাশ দেখতে পেয়েছেন। অনেক লাশ মাদুর ও ঐতিহ্যবাহী কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলো দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।’
নাইজেরিয়ার জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার (নেমা) মুখপাত্র ইজেকিয়েল মানজো বিবিসিকে বলেন, ‘গোরাউ খুবই দুর্গম এলাকা। আমাদের দল সেই দুর্গম জায়গাটিতে পৌঁছেছে।’
নাইজেরিয়ায় নৌপথে দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায়ই নৌকা ডুবে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করাকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গত মাসে দেশটির জিগাওয়া প্রদেশে একটি নৌকা উল্টে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কৃষক ও জেলেদের নিয়ে জিগাওয়া থেকে ইয়োবে যাওয়ার পথে একটি নৌকা ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অন্তত ২৬ জন।
এ ধরনের দুর্ঘটনার দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ঘটনাটিও। সে সময় নাইজার নদী থেকে ৫৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হয়েছিল, দুই শতাধিক যাত্রী বহনকারী একটি নৌকা নদীতে ডুবে যাওয়ার পর ওই প্রাণহানি ঘটে।
বারবার দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির পর নাইজেরিয়ায় নৌপথের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। দুর্ঘটনা কমাতে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ নৌযান ও পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করা, নৌপথ নিয়মিত খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ, ঘাট ও টার্মিনালে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং নৌযান চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরো পড়ুন: ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান নয়, নৌযাত্রার আগেই নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
প্রসঙ্গত, নাইজেরিয়ার লাখো মানুষের জন্য, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নদীপথ। অনেক গ্রামই জলপথের কাছাকাছি অবস্থিত। অন্যদিকে সড়কের দুরবস্থা ও সেতুর অভাবে স্থলপথে যাতায়াত অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
মানুষ ও পণ্য পরিবহণে এসব এলাকায় প্রায়ই কাঠের নৌকা ব্যবহার করা হয়। বাজার ও আশপাশের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এসব নৌকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
