ডিএনএ পরীক্ষায় বদলে গেল পরিচয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কয়েক মাস আগেও গাড়ির শোরুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন ক্লেমেন্ট ভ্যানডেনকার্কহোভ। ক্রেতাদের সঙ্গে গাড়ির দাম নিয়ে দরদাম করেই চলছিল তার জীবন। কিন্তু একটি ডিএনএ পরীক্ষার ফল বদলে দিয়েছে তার পরিচয়। ২৬ বছর বয়সে তিনি জানতে পারেন, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরেন্ট তার জৈবিক বাবা।
প্রায় ছয় মাস আগে একটি পৌরসভা কার্যালয়ে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্লেমেন্টের পিতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়। এর ফলে তিনি রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও কোনো সরকারি ভাতা পাবেন না। রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও পালন করতে হবে না তাকে। এমনকি বেলজিয়ামের সিংহাসনে বসারও কোনো অধিকার তৈরি হয়নি তার।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন বার্তা জয়শঙ্করের
২০০০ সালের আগস্টে জন্ম ক্লেমেন্টের। তার মা বেলজিয়ামের সংগীতশিল্পী ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেন, যার প্রকৃত নাম আইরিস ভান্ডেনকার্কহোভে। ১৯৯০-এর দশকে প্যারিসে একটি ফ্যাশন শোতে প্রিন্স লরেন্টের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
ক্লেমেন্ট ১৬ বছর বয়সে মায়ের কাছ থেকে তার জৈবিক বাবার পরিচয় জানতে পারেন। এরপর প্রায় চার বছর পর প্রিন্স লরেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে লরেন্টও ডিএনএ পরীক্ষা করাতে সম্মত হন।
বেলজিয়ামের টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিএমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লেমেন্ট বলেন, তিনি ও প্রিন্স লরেন্ট একসঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করিয়েছিলেন। পরীক্ষার আগে লরেন্ট তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পরীক্ষার ফলাফলে তাদের পিতৃত্বের সম্পর্ক নিশ্চিত হয়।
ডিএনএ পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর বাবার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ক্লেমেন্ট। চলতি সপ্তাহে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বেলজিয়ামের রাজপরিবারে এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পিতৃত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে প্রিন্স লরেন্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হিসেবে ক্লেমেন্টের অধিকার তৈরি হয়েছে। ফলে লরেন্টের অন্য সন্তান প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স নিকোলা ও প্রিন্স আইমেরিকের সঙ্গে তিনি সমানভাবে ওই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন।
তবে রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার পরও রাষ্ট্রীয় কোনো ভাতা পাবেন না ক্লেমেন্ট। একই সঙ্গে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও তার ওপর বর্তাবে না। বেলজিয়ামের রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগও তার নেই।
চাইলে বাবার পারিবারিক পদবি ‘সাক্সে-কোবুর্গ’ ব্যবহার করতে পারবেন ক্লেমেন্ট। তবে তিনি মায়ের দেওয়া ‘ভান্ডেনকার্কহোভে’ পদবিই ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার মতে, এই পারিবারিক নাম ত্যাগ করা হলে মায়ের করা সবকিছুর প্রতি এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হবে।
বেলজিয়ামের রাজপরিবারে গোপন পিতৃত্বের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। প্রিন্স লরেন্টের বাবা এবং বেলজিয়ামের সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবার্টও দীর্ঘদিন এমন একটি পিতৃত্বের আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে দ্বিতীয় আলবার্ট স্বীকার করেন, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে তার একটি কন্যাসন্তান জন্মেছিল। ওই মেয়ের নাম ডেলফিন বোয়েল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তিনি রাজকন্যার মর্যাদা লাভ করেন। বর্তমানে তিনি ‘ডেলফিন দ্য সাক্সে-কোবুর্গ’ নাম ব্যবহার করছেন।
সূত্র: সিএনএন
