×

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন বার্তা জয়শঙ্করের

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন বার্তা জয়শঙ্করের

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, কোনো সম্পর্ক তখনই কার্যকরভাবে এগোয়, যখন উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি ‘অভিন্ন জায়গা’ বা সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করা যায়।

ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: স্লিপার বাস নিয়ে মালিকদের সঙ্গে বসবে বিআরটিএ

জয়শঙ্কর বলেন, কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কার্যকর রাখতে হলে উভয় দেশের জন্যই সেখানে কিছু সুবিধা থাকা প্রয়োজন। একটি দেশ কেবল নিজের স্বার্থ অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে সবকিছু প্রত্যাশা করতে পারে না। একইভাবে অপর পক্ষের স্বার্থকেও গুরুত্ব দিতে হবে। দুই দেশ এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাতে পারলে, যেখানে উভয়ের স্বার্থের সমন্বয় সম্ভব, তখন সম্পর্কও স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে।

তাঁর ভাষায়, এই ‘কমন গ্রাউন্ড’ বা অভিন্ন জায়গাই দুই দেশের সম্পর্ককে মসৃণভাবে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি।

জয়শঙ্করের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে।

বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে বিচারও হয়েছে। ফলে বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা জানা গেল

এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে সফর নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি।

এর আগে ভারতীয় সাবেক কয়েকজন কূটনীতিক মন্তব্য করেছিলেন, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় সফরটি কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এমন প্রেক্ষাপটে জয়শঙ্করের বক্তব্যকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের সাধারণ কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে ভারত কেবল নিজের স্বার্থ অনুযায়ী আচরণ প্রত্যাশা করে না; অন্য দেশের স্বার্থকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

অর্থাৎ, দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সমাধানে একতরফা অবস্থানের পরিবর্তে দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয়ের পথ খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে সংঘাত, প্রতিযোগিতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো বা ‘ডি-রিস্কিং’ গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, কোনো একটি দেশ বা উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন দেশ ও উৎসের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা কিংবা অর্থনীতির কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলে তার নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

বিশেষ করে জ্বালানি, সার এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু কম খরচের বিষয়টি বিবেচনা করলেই হবে না, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকিও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।

চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন জয়শঙ্কর। তিনি জানান, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সীমান্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। দুই দেশের সুসম্পর্কের জন্য সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ভারত ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, ভারত ও চীন উভয়ই বড় অর্থনীতি এবং একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার।

জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চীনের সঙ্গেও ভারতের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পুলিশের সোর্স থেকে মাদক কারবারে, পিচ্চি রাজার উত্থান যেভাবে

পুলিশের সোর্স থেকে মাদক কারবারে, পিচ্চি রাজার উত্থান যেভাবে

ইউএনও-উপজেলা প্রশাসকদের জরুরি নির্দেশনা জারি

ইউএনও-উপজেলা প্রশাসকদের জরুরি নির্দেশনা জারি

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত

এডিবির সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি

এডিবির সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App