মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, কারণ জানাল পররাষ্ট্র দপ্তর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত করেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক মিশনগুলোতে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার কারণে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশিক্ষণের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব সাক্ষাৎকার নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। তবে কবে নাগাদ এই প্রক্রিয়া শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারী শনাক্তে আরও দক্ষ করে তোলা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। পাশাপাশি ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়নের সক্ষমতাও বাড়ানো হবে।
আরও পড়ুন: ফারাক্কা নিয়ে বিহারের আপত্তিতে প্রশ্নের মুখে গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ
এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নির্ধারিত অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার বাতিল বা পুনঃনির্ধারণ করা হচ্ছে। অনেক আবেদনকারী ই-মেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তনের তথ্য পেয়েছেন। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আওতায় ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মতামত বা গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণেও কিছু আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তন আনার একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। প্রস্তাবটিকে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব বছরে অন্তত ১০ কোটি ডলার হতে পারে অথবা অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো অর্থনৈতিক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া পর্যটন বা ব্যবসার কাজে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করে দেশটিতে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাও করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
আরও পড়ুন: ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ১৮৪ জনের নিয়োগ
ট্রাম্পের দাবি, আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া এসব কঠোর অভিবাসন পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার আওতায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। বিচারকের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে পরিচয়ভিত্তিক হয়রানি ও বর্ণবিদ্বেষমূলক নজরদারির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা বাড়িয়েছে। এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীর ওপর নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপের বিষয়টি সামনে এসেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
