×

আইন-বিচার

সালমান শাহ হত্যা মামলা

ডনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অপেক্ষায় সিআইডি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

ডনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অপেক্ষায় সিআইডি

ছবি : সংগৃহীত

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক মজিবুর রহমান ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের রহস্যে ঘেরা সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে তদন্ত করছে সংস্থাটি। ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার অন্য আসামিদের ভূমিকা, হত্যার সম্ভাব্য কারণ এবং ঘটনার সময়কার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে। ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

আরও পড়ুন: হজ কার্যক্রমে অনুমতি পেলো আরও ৩৮ এজেন্সি

সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের বিশেষ পুলিশ সুপার বেনজির আহমেদ বলেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ৯ আগস্ট ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ সালমান শাহ হত্যা মামলার চার নম্বর আসামি আশরাফুল হক ডনকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি।

সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বলেন, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তার দাবি, মামলার অন্য আসামিরাও দেশে অবস্থান করছেন, কিন্তু তাদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্তের পর আদালত সালমান শাহর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে হত্যা মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নীলা চৌধুরীর অভিযোগ, সালমান শাহকে হত্যার পেছনে চলচ্চিত্রের প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে তার বিরোধ ভূমিকা রেখেছিল। এ ছাড়া সোহান, সুকুমার রঞ্জন ও আনন্দ ফিল্মসের সঙ্গেও সালমানের বিরোধ ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সালমান এসব পক্ষের চলচ্চিত্রে কাজ না করে অপেক্ষাকৃত ছোট প্রযোজকদের সঙ্গে কাজ করায় চলচ্চিত্র অঙ্গনের একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তিনি ঘটনাটিকে ‘ফিল্মি পলিটিক্স’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, এর সঙ্গে সালমানের স্ত্রী এবং তার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরাও জড়িত ছিলেন।

যেভাবে রহস্যজনক মৃত্যু

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার নিজ ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহকে পাওয়া যায় বলে তার স্ত্রী সামিরা হক জানিয়েছিলেন। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

সালমান শাহর মৃত্যুর পর থেকেই তার পরিবারের দাবি ছিল, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে ঘটনার পর রমনা থানা পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা করে আত্মহত্যার বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত শুরু করে। সালমানের বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই এ অবস্থানের বিরোধিতা করে আসছিলেন।

আরও পড়ুন: মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, কারণ জানাল পররাষ্ট্র দপ্তর

ঘটনার প্রায় এক বছর পর, ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করার আবেদন করেন তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী। এরপর পুলিশ, সিআইডি এবং পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাটি তদন্ত করে। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

পিবিআইয়ের তদন্তে আত্মহত্যার কথা

২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ঢাকার সিএমএম আদালতে প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি; তিনি আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার পেছনে পাঁচটি কারণও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর পরের বছর, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের তৎকালীন প্রধান বনজ কুমার মজুমদার জানান, সালমান শাহকে হত্যার কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহ ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলেও জানান তিনি।

তবে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদালতে নারাজি আবেদন করেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।

এই হত্যা মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের মালিক রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

প্রায় তিন দশক ধরে আলোচিত এই মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় ডনের রিমান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্য আসামিদের ভূমিকা এবং সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য কতটা উদঘাটিত হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

 লুঙ্গি খুলে হল ঘোরানোর হুমকি, কুবিতে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

লুঙ্গি খুলে হল ঘোরানোর হুমকি, কুবিতে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৩৩১

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৩৩১

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ১৭, নিখোঁজ প্রায় ৪০০

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ১৭, নিখোঁজ প্রায় ৪০০

প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে বড় সুখবর

প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে বড় সুখবর

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App