ধ্বংসস্তূপ থেকে নাটকীয় উদ্ধারের পর বাবা-মায়ের কোলে পাঁচ বছরের শিশু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার দুই দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যা হাসপাতালে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছে।
কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, মানিশা নামের শিশুটির শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। রোববার (৩০ আগস্ট) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
রাসুয়া জেলার সিয়াব্রুবেসির কাছে উদ্ধারকাজ চালানোর সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একটি শব্দ শুনতে পান উদ্ধারকারীরা। প্রথমে তারা ধারণা করেছিলেন, সেখানে হয়তো একটি বিড়াল আটকে আছে।
নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্সের কর্মকর্তা সঞ্জু খাত্রি জানান, শব্দের উৎস খুঁজতে উদ্ধারকারী দল ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করে এবং ধ্বংসাবশেষ সরাতে থাকে। একপর্যায়ে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে মানিশাকে জীবিত অবস্থায় দেখতে পান।
আরও পড়ুন: বন্যার স্রোত আসতেই ছুটির ঘণ্টা, প্রাণে বাঁচল ১,৬৪৩ শিক্ষার্থী
শিশুটিকে উদ্ধার করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। উদ্ধারকাজের একটি ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তাকে জীবিত বের করে আনার দৃশ্য দেখা গেছে।
উদ্ধারকারীরা জানান, শিশুটি জীবিত থাকলেও তখন সামান্যই নড়াচড়া করতে পারছিল। তাকে দ্রুত সরিয়ে নিতে একটি হেলিকপ্টারের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হেলিকপ্টার পাঠানো সম্ভব হয়নি।
পরে উদ্ধারকারী দল মানিশাকে তাদের শিবিরে নিয়ে যায় এবং পানি পান করায়। কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরলে তাকে চেতনা ও শক্তি ফেরাতে সেদ্ধ ভাতের মাড় খাওয়ানো হয়। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকায় শিশুটি মানসিকভাবেও আঘাতপ্রাপ্ত ছিল।
শনিবার বিকেলে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালের শিশু জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানিশার অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং সে সুস্থ হয়ে উঠছে। হাসপাতালে বাবা-মায়ের সঙ্গে তার দেখাও হয়েছে।
সাম্প্রতিক বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৪৯৮ জন এখনো নিখোঁজ। এ ছাড়া তিব্বতের গিয়েরং কাউন্টিতেও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন।
