রানওয়ে ছাড়িয়ে যানবাহনে ধাক্কা কার্গো বিমানের, হতাহত বহু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে ছাড়িয়ে যায় অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান। পরে বিমানটি একাধিক যানবাহনে ধাক্কা দিলে এতে আগুন ধরে যায়। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ বন্ধ রাখা হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটি অবতরণের পর নির্ধারিত রানওয়ের মধ্যে থামতে পারেনি। একপর্যায়ে এটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত পেরিয়ে বাইরে চলে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। দুর্ঘটনার পর বিমানটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পথে থাকা একাধিক যানবাহনে সেটি আঘাত করে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১
মিয়ামি-ডেড কাউন্টির কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনায় আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। অপর দুজন তুলনামূলক কম গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে ৬০টির বেশি ফায়ার ও রেসকিউ ইউনিট অংশ নেয়। দুর্ঘটনার পর কয়েকটি মোটরযানের ভেতরে মানুষ আটকা পড়েছিলেন।
ফায়ার রেসকিউ প্রধান রে জাদাল্লাহ জানান, বিমানের ভেতরেও পাইলট ও কো-পাইলট আটকা পড়েছিলেন। তবে দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে মোট কতজন ক্রু বা যাত্রী ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে বাস খাদে, নিহত ২৫
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরও বিমানটি থেকে জ্বালানি বের হচ্ছিল। উদ্ধারকর্মীরা সেটি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন।
অ্যামাজনের এক মুখপাত্র জানান, বিমানটি ২১ এয়ার পরিচালনা করছিল। অবতরণের সময় একটি ‘ঘটনা’ ঘটেছে বলে জানানো হয়। অ্যামাজনের মুখপাত্র কেলি ন্যানটেল বলেন, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় জড়িত সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সারা দেশে বৃষ্টির আভাস
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। আগুন লাগলেও ভিডিওতে বিমানটির বড় একটি অংশ অক্ষত অবস্থায় দেখা গেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটির বয়স ৩২ বছর। দুই দশকেরও বেশি সময় এটি যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পরে ২০১৫ সালে বিমানটিকে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে রূপান্তর করা হয়।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, রানওয়ে থেকে ছিটকে যাওয়ার পর বিমানটি বিমানবন্দরের কাছের একটি সড়কও অতিক্রম করে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার বিষয়ে অবগত রয়েছে এবং আরও তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট জানাবে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশিদের কঠোর সতর্কবার্তা দিল হাইকমিশন
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, দুর্ঘটনার পর মিয়ামি বিমানবন্দরে সব ধরনের উড্ডয়ন ও অবতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে যাত্রীদের বড় ধরনের বিলম্বের মুখে পড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে গেল এবং দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত করছে এফএএ।
