ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের সম্মানী ও উৎসব ভাতা দেবে সরকার, প্রজ্ঞাপন জারি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এর আওতায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের মাসিক সম্মানী, উৎসব ভাতা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
আরও পড়ুন: সম্পত্তি হস্তান্তর বিল শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর দাবি
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের এই অবদান বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
যেসব সুবিধা থাকছে
নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, এর মাধ্যমে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত আয় ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করা।
দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ
শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে নীতিমালাটি সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বিকল্পভাবে আয় করার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছেন। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তাদের এই অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাও আরও জোরদার হবে।
