মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশিদের কঠোর সতর্কবার্তা দিল হাইকমিশন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত বা নথিবিহীন অবস্থায় থাকা বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন। একই সঙ্গে দেশটিতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ইমিগ্রেশন অভিযানের মধ্যে গ্রেপ্তার এড়িয়ে সরকারি সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোববার মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তরিকুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস
তিনি জানান, অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশিদের আইনসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিতে মালয়েশিয়া সরকার ‘মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’ (পিআরএম ২.০) চালু করেছে। কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যেভাবে দেশে ফিরতে হবে
পিআরএম ২.০-এর আওতায় দেশে ফিরতে আবেদনকারীর বৈধ ও মেয়াদ থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। পাসপোর্ট না থাকলে অথবা মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পারমিট (টিপি) সংগ্রহ করা যাবে।
এরপর আবেদনকারীকে নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টের অন্তত পাঁচ দিন পর এবং সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে বিমানের যাত্রার তারিখ নির্ধারণ করতে হবে।
আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের প্রতিবাদে আজ জামায়াতের বিক্ষোভ
আবেদনের সময় সঙ্গে রাখতে হবে পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো ও নতুন পাসপোর্ট। এ ছাড়া নিশ্চিত বিমান টিকিটও সঙ্গে রাখতে হবে।
দালালকে টাকা না দেওয়ার আহ্বান
অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক করে তরিকুল ইসলাম বলেন, পিআরএম ২.০-এর জন্য আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হাইকমিশনের এ সতর্কবার্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার বা আইনি জটিলতায় পড়ার আগে সরকারি কর্মসূচির আওতায় দেশে ফেরার সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
