হরমুজে পালটাপালটি হামলা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় পালটাপালটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরান হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে নৌপরিবহন ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দিক থেকে এটিই এখন পর্যন্ত দুই দেশের সবচেয়ে বড় পালটাপালটি হামলার ঘটনা।
আরও পড়ুন: একনেক সভা কী, কীভাবে কাজ করে
এসব হামলায় একটি ট্যাংকারে থাকা অন্তত একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। আরেকজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইরান আরও জানিয়েছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। জর্ডানের দাবি, দেশটির বাহিনী আকাশেই ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটিতে অবস্থানরত সব মার্কিন সেনা নিরাপদে আছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে ইরানের ওপর নতুন করে কোনো হামলা হলে তার জবাবের মাত্রা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রে নতুন করে একটি বড় নিষিদ্ধ এলাকা নির্ধারণের কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
আরও পড়ুন: এসএমই ঋণ কী?
আইআরজিসি জানিয়েছে, শিগগিরই ওই নিষিদ্ধ এলাকার মানচিত্র প্রকাশ করা হবে। নতুন এলাকাটি পাকিস্তানের উপকূলের কাছাকাছি চাবাহার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে ইকুয়েডর সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো কোনো বাহ্যিক সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা ইরান পাচ্ছে না। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে প্রতিনিয়ত চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রুবিও জানান, গত রাতে ইরান আরও পাঁচটি ট্যাংকার হারিয়েছে। এর মধ্যে চারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি সাগরে ডুবে গেছে।
গত এক মাস তুলনামূলক শান্ত থাকার পর নতুন করে এসব হামলা হলো। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করছিল।
আরও পড়ুন: কোন প্রকল্প যাবে একনেকে, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম গত জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি
