অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন পুতুল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে সংস্থাটির তদন্ত চলার মধ্যেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন।
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন পুতুল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা পুতুলের পদত্যাগপত্রটি দেখেছে।
আরও পড়ুন: এসএমই ঋণ কী?
পদত্যাগপত্রে পুতুলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুতুল দাবি করেছেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি জমিটির অধিকার পেয়েছিলেন বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগপত্রে পুতুল বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং দায়িত্বটি তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: একনেক সভা কী, কীভাবে কাজ করে
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনের ক্ষেত্রে তাকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এ কারণে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তার আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় এক বছর ধরে বেতন ছাড়া ছুটিতে থাকায় কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ার বিষয়টিও তার আর্থিক পরিস্থিতিকে অসহনীয় করে তুলেছে বলে জানান তিনি।
পুতুলের বিরুদ্ধে চীন সফরকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করছে ডব্লিউএইচও। তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি।
২০২৩ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর ভোটে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন পুতুল। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের মেয়াদে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন তিনি।
আরও পড়ুন: কোন প্রকল্প যাবে একনেকে, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি পুতুলের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পুতুলকে প্রথমবারের মতো বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। বুধবার পর্যন্ত তিনি ওই ছুটিতেই ছিলেন।
চলতি বছরের ৩ জুলাই পুতুলের আইনজীবীরা এক চিঠিতে জানান, চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে এনেছে ডব্লিউএইচও।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জুলাইয়ে সংস্থাটিকে দেওয়া এক চিঠিতে পুতুল ভ্রমণসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করেন। আইনজীবীদের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, নিয়মিত ভ্রমণ ব্যয়ের অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়। ওই অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।
আরও পড়ুন: মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রণালয়ে ঘুরছে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগেরও ব্যাখ্যা দেন পুতুল। তিনি জানান, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। এই যোগ্যতার বিষয়টি তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।
এদিকে একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পুতুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরানোর পরিকল্পনা করছিল ডব্লিউএইচও। আগামী ১২ অক্টোবর আঞ্চলিক পরিচালকের পদের জন্য মনোনয়ন ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
