×

তথ্যপ্রযুক্তি

রোবটের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে আফিয়া হুমায়রা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২ এএম

রোবটের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে আফিয়া হুমায়রা

ছবি : সংগৃহীত

রোবটের ছোট্ট যন্ত্রাংশ, কোডের কয়েকটি লাইন আর সমস্যার সমাধানের নিরন্তর চেষ্টা- এই তিনের সমন্বয়েই নিজের ভবিষ্যৎ দেখেন আফিয়া হুমায়রা। বয়সে এখনও তরুণ হলেও আন্তর্জাতিক রোবোটিক্সের মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরার অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যেই অর্জন করেছেন তিনি।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী আফিয়া হুমায়রা এখন বাংলাদেশের তরুণ রোবোটিক্স প্রতিভাদের অন্যতম পরিচিত মুখ। ‘সাইবার স্কোয়াড’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে টানা দুই বছর বিশ্ব রোবট অলিম্পিয়াডের আন্তর্জাতিক আসরে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালে তুরস্কের ইজমিরে অনুষ্ঠিত World Robot Olympiad-এ তাঁর নেতৃত্বাধীন দল ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। পরের বছর ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফাইনালে সেই সাফল্য আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে রৌপ্য পদক জেতে দলটি। পাশাপাশি অর্জন করে নবম স্থান।

তুরস্কে প্রথম বড় সাফল্য

২০২৪ সালের WRO ছিল আফিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় পরীক্ষা। তুরস্কের ইজমিরে অনুষ্ঠিত ওই আসরে ৮৭টি দেশের ৫৬০টি দল অংশ নেয়। বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ছিল ‘সাইবার স্কোয়াড’। আফিয়ার নেতৃত্বে দলটি ফিউচার ইনোভেটরস বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে।

এই সাফল্য শুধু একটি পদক জয় নয়; আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তরুণদের সক্ষমতারও প্রমাণ হয়ে ওঠে। ওই আসরে বাংলাদেশের হয়ে দুটি দল ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। এর একটি ছিল আফিয়া হুমায়রার নেতৃত্বাধীন ‘সাইবার স্কোয়াড’, অন্যটি সাদিয়া আনজুম পুষ্পর নেতৃত্বাধীন ‘চেইঞ্জ মেকার্স ২০২৪’।

দেশের গণমাধ্যমেও তখন বিশেষভাবে উঠে আসে আফিয়ার নেতৃত্বের বিষয়টি। কারণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পদকজয়ী দুই দলের নেতৃত্বেই ছিলেন নারী শিক্ষার্থী।

ব্রোঞ্জ থেকে রৌপ্য

তুরস্কের সাফল্যের পর থেমে থাকেননি আফিয়া। ২০২৫ সালের জাতীয় রাউন্ডে ‘সাইবার স্কোয়াড’ আবারও নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেয়। ফিউচার ইনোভেটরসের জুনিয়র গ্রুপে দলটি স্বর্ণপদক অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পায়। জাতীয় পর্বে অংশ নেয় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী।

জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণ জয়ের পর আফিয়া বলেছিলেন, “This gold medal is a huge inspiration for us. We want to take on more challenges in robotics and bring international success for Bangladesh.”

অর্থাৎ, এই অর্জন তাঁদের আরও বড় চ্যালেঞ্জ নেওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে তাঁরা আরও এগিয়ে যেতে চান।

এরপর অপেক্ষা ছিল সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক ফাইনালের। ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর ২০২৫ সিঙ্গাপুরের Marina Bay Sands Expo-তে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব রোবট অলিম্পিয়াডের আন্তর্জাতিক ফাইনাল। এতে বাংলাদেশের নয়টি দল অংশ নেয়। আফিয়ার নেতৃত্বাধীন ‘সাইবার স্কোয়াড’ ফিউচার ইনোভেটরসের জুনিয়র গ্রুপে নবম স্থান অর্জনের পাশাপাশি রৌপ্য পদক পায়।

দলের সঙ্গে ছিলেন কোচ তায়েফ মাহমুদ উদয় এবং সদস্য হুমায়রা আফিয়া।

শুধু প্রতিযোগী নন, এখন প্রশিক্ষকও

আফিয়ার পথচলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের পর তিনি শুধু নিজের সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের রোবোটিক্সের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কাজেও যুক্ত হয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ক্র্যাব ও উইংস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ROBOGENESIS: Igniting the Future of Robotics’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আফিয়া। সেখানে ক্র্যাব সদস্যদের সন্তানদের রোবোটিক্সের বিভিন্ন মৌলিক বিষয়, প্রকল্পভিত্তিক কাজ ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেন তিনি।

একসময় যিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শেখার জন্য মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন, এখন তিনিই অন্যদের শেখানোর জায়গায় দাঁড়াচ্ছেন। একজন তরুণ রোবোটিক্স প্রতিযোগীর বিকাশে এই পরিবর্তনটিই হয়ে উঠেছে তাঁর পথচলার অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক।

নেতৃত্বের জায়গায় একজন তরুণী

রোবোটিক্সকে অনেক সময় জটিল প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও কোডিংয়ের জগৎ হিসেবে দেখা হয়। সেই জায়গায় আফিয়ার নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়- প্রযুক্তির মঞ্চে মেয়েদের অংশগ্রহণ শুধু সম্ভবই নয়, নেতৃত্ব দেওয়াও সম্ভব।

২০২৪ সালে তুরস্কের আন্তর্জাতিক আসরে আফিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ‘সাইবার স্কোয়াড’ ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। পরের বছর সিঙ্গাপুরে একই দলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি রৌপ্য পদক জেতেন। তাই তাঁর সাফল্য শুধু পদকের রং বদলের গল্প নয়; এটি নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং ধারাবাহিক অনুশীলনেরও গল্প।

বাংলাদেশের জন্য যে স্বপ্ন

আফিয়ার নিজের কথাতেই তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট—আরও বড় চ্যালেঞ্জ নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য সাফল্য নিয়ে আসা। ২০২৫ সালের জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণ জয়ের পর তাঁর বক্তব্যেও সেই প্রত্যয় প্রকাশ পেয়েছিল।

রোবোটিক্সের বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, মেশিন ভিশন ও স্মার্ট প্রযুক্তির সঙ্গে রোবোটিক্সের সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সময়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তরুণদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আফিয়া হুমায়রার পথচলা তাই শুধু একজন শিক্ষার্থীর পদকজয়ের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের একদল তরুণের স্বপ্ন দেখার গল্প—যেখানে রোবট কেবল একটি যন্ত্র নয়, বরং উদ্ভাবন, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের হাতিয়ার।

ব্রোঞ্জের পর এসেছে রৌপ্য। সামনে লক্ষ্য আরও বড়। আর সেই লক্ষ্যের পথে আফিয়ার হাতে রোবট, চোখ বিশ্বমঞ্চে এবং স্বপ্নজুড়ে বাংলাদেশের পতাকা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রোবটের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে আফিয়া হুমায়রা

রোবটের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে আফিয়া হুমায়রা

পুরনো মালিকদের ব্যাংকে ফেরা বন্ধ

পুরনো মালিকদের ব্যাংকে ফেরা বন্ধ

এসএমই ঋণ কী?

এসএমই ঋণ কী?

৮৯ শিক্ষার্থীর পাশে রাকসু জিএস আম্মার

৮৯ শিক্ষার্থীর পাশে রাকসু জিএস আম্মার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App