পুরনো মালিকদের ব্যাংকে ফেরা বন্ধ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের জন্য আনা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে সংকটে পড়া ব্যাংকের রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় সাবেক শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালকদের ফেরার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আর থাকছে না।
বুধবার জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। একই সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনও সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
বিলটি পাসের সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, ওই ধারায় নির্ধারিত কঠোর নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ব্যাংক অধিগ্রহণের জন্য এগিয়ে আসেননি।
তিনি বলেন, সংকটে থাকা তফসিলি ব্যাংক পুনর্গঠনে বাজারভিত্তিক বিকল্প কাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট মোকাবিলা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংক অবসায়নের পরিবর্তে পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
অর্থমন্ত্রী জানান, ধারাটিতে যোগ্য ও সক্ষম ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কঠোর শর্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু আইন কার্যকর হওয়ার পর কোনো ব্যক্তি, শেয়ারহোল্ডার বা প্রতিষ্ঠান ওই শর্তগুলো পূরণ করতে পারেননি। ফলে ধারাটির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশোধিত আইনে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা সম্পূর্ণভাবে রহিত করা হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে ১৮(ক) ধারা ছিল না। পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন করে আইনে রূপ দেওয়ার সময় নতুন করে ধারাটি যুক্ত করা হয়। আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই এ ধারা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, ১৮(ক) ধারার সুযোগ নিয়ে রেজল্যুশনের আওতায় যাওয়া ব্যাংকের সাবেক বা বিতর্কিত পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডাররা পুনরায় ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ পেতে পারেন।
ধারাটিতে বলা হয়েছিল, কোনো ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে ওই ব্যাংকের শেয়ারধারী শেয়ারহোল্ডাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পুনরায় ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণের আবেদন করতে পারবেন। একই সুযোগ অন্য কোনো যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেও দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল।
পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের উদ্যোগের মধ্যে সাবেক পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। এ সময় ১৮(ক) ধারা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। পরে সমালোচনার মুখে সরকার ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইন কার্যকর হওয়ার পর নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি। তাই ধারাটি বহাল রাখার যৌক্তিকতা না থাকায় তা বাতিল করাই উপযুক্ত বলে সরকার মনে করছে।
