মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠক
পশ্চিম এশিয়ার সংকট নিরসনে সংলাপ ও নিরাপদ সমুদ্রপথে জোর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার ভারতে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন তিনি। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুই নেতার এটি দ্বিতীয় বৈঠক। বৈঠকে বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট, নিরাপদ সমুদ্রপথ ও নাবিকদের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দেন মোদি। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে অবাধ জাহাজ চলাচল, পণ্য পরিবহন এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এনটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল মোদি ও পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল।
ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিরাপদ সমুদ্রপথ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ভারতের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।
বৈঠকে ব্রিকসের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান মোদি। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের প্রেসিডেন্টের ভারত সফর এবং ব্রিকসের কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়েছে নয়াদিল্লি।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ায় আলো ছড়িয়েই সিপিএলে জায়গা করে নিলেন মিরাজ
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ভারত শুরু থেকেই সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে। তবে চলমান সংঘাতের কারণে ভারতের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।
সংঘাতের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ভারতসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলোও জ্বালানি সরবরাহে সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকিতে পড়ে।
আরও পড়ুন: যেভাবে বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল হুথিরা
সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনাও নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ কারণেই মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠকে নাবিকদের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচলের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের আহ্বান পেজেশকিয়ানের
এর আগে শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান পেজেশকিয়ান।
তিনি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো একটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে ব্রিকসকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে কোনো একটি দেশ আর্থিক ব্যবস্থায় আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে বৈধ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।
ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের ভারত সফর ও মোদির সঙ্গে বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পড়ছে। ফলে দুই নেতার আলোচনায় কূটনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি নিরাপদ বাণিজ্যপথ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।
