×

জামায়াত

লংমার্চে বাধা দিলেই রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০২ পিএম

লংমার্চে বাধা দিলেই রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন

ছবি : সংগৃহীত

ছয় দফা দাবি আদায়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে ১১-দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা বা হামলা হলে কঠোর প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের নেতারা।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ ছয় দফা দাবিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচি পালন করছে জোটটি।

প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে আয়োজিত লংমার্চকে সফল করতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ১১ দল। তবে সরকারি দল বিএনপির নেতারা রাজপথে কর্মসূচির মাধ্যমে পরিকল্পিত অচলাবস্থা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারকে বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতাদের দাবি, এটি সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন নয়; বরং জনগণের অধিকার ও বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি।

লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই কর্মসূচি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়। দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত এবং জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারে যে দলই থাকুক, জনগণের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান সরকার এসব ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে জুলাই সনদ, আদেশ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও সরকার জনগণের সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে।

এদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারকে বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শুধু রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে সংসদে এবং সরকারের কাছে সংকট সমাধানের বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়া উচিত।

রিজভী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনার কারণে তৈরি হয়েছে। তাই সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলোরও সুনির্দিষ্ট বিকল্প পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আন্দোলন ও কর্মসূচি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও পরিকল্পিতভাবে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা দেশের জন্য ভালো নয়। কীভাবে সংকট নিরসন করা যায়, সে বিষয়ে গঠনমূলক প্রস্তাব দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারি দল, তাদের সহযোগী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশ লংমার্চে প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে সরকার জনগণের আস্থা আরও হারাবে।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে এবং প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে সরকার ও প্রশাসন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

লংমার্চ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সম্পর্কে গোলাম পরওয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে এক হাজার গাড়ি নিয়ে কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হলেও পরে অংশগ্রহণকারী গাড়ির সংখ্যা বেড়ে প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকায় উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হবে। সকাল ৮টার পর গাড়িবহর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাসহ কয়েকটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

সময় সাশ্রয়ের জন্য প্রতিটি পথসভায় ১১ দলের সব শীর্ষ নেতা বক্তব্য দেবেন না। একটি অগ্রবর্তী প্রতিনিধিদল আগে গিয়ে পথসভায় বক্তব্য দেবে। পরে মূল গাড়িবহর সেখানে পৌঁছাবে।

গোলাম পরওয়ার জানান, যানজট বা যান্ত্রিক কোনো জটিলতা না হলে সন্ধ্যা কিংবা মাগরিবের মধ্যে বহরটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গাড়িতে থাকবে নির্দিষ্ট স্টিকার ও নম্বর। বহরে শীর্ষ নেতাদের গাড়ির পাশাপাশি নিরাপত্তা দল, মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, আইটি এবং মিডিয়া টিমের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, পথে গাড়ি থেকে নেমে পথসভায় অংশ নেওয়া যাবে না। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই পথসভাগুলোতে জনসমাগম নিশ্চিত করবেন। এছাড়া সারা দিনের যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, পানি ও ওষুধ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লংমার্চ শুরু হওয়ার পর নতুন কোনো গাড়ি বহরের মাঝখানে যুক্ত হতে পারবে না। কেউ নতুন করে অংশ নিতে চাইলে তাকে বহরের একেবারে শেষ প্রান্তে যুক্ত হতে হবে।

সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, এটি সরকার পতনের আন্দোলন নয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং ঘোষিত ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে লংমার্চের গাড়িবহরকে শুভেচ্ছা জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, জনগণের ভোগান্তি নিরসন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চে অংশ নিচ্ছে এনসিপি।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয়।

আখতার হোসেন বলেন, জনগণের এসব দাবি সংসদে তুলে ধরা হলেও সরকার এখন পর্যন্ত সেগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দেখায়নি। তাই জনগণের দাবি আদায়ে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রাত পোহালেই ১১ দলের লংমার্চ

রাত পোহালেই ১১ দলের লংমার্চ

হঠাৎ আবারও কেন আলোচনায় ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’

হঠাৎ আবারও কেন আলোচনায় ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’

ডিবি কার্যালয়ে সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন সারজিস

ডিবি কার্যালয়ে সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন সারজিস

পে-স্কেলের নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক জটিলতার আভাস

পে-স্কেলের নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক জটিলতার আভাস

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App