পে-স্কেলের নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক জটিলতার আভাস
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জারির কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তের কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে গেজেট প্রকাশ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলের গেজেটের খসড়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় মুদ্রণ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এটি পরবর্তী ধাপে যাবে।
প্রজ্ঞাপন জারির আগে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এরপর এসআরও নম্বরসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ধাপ শেষ করতেই এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
এর আগে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে আগামী রোববার গেজেট প্রকাশের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
তবে অর্থসচিব জানিয়েছেন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বরই নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ফলে এখন বিজি প্রেসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শেষ মুহূর্তের কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের।
নতুন বেতন কাঠামোয় আগের মতো ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে বাড়ছে ১০০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধানও কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫ থাকলেও নতুন পে-স্কেলে তা কমিয়ে ১:১.৭৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের মতে, এর ফলে বেতন কাঠামোয় তুলনামূলকভাবে বেশি ন্যায্যতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত হবে।
নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হলেও সব সুবিধা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে নতুন পে-স্কেলের গেজেট নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ হবে কি না, তা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। আগামী রোববারের মধ্যেই প্রশাসনিক সব প্রক্রিয়া শেষ করে বহুল প্রতীক্ষিত প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
