কাদের-পলকের ফোনালাপ: কথা হয় যেসব বিষয়ে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রথম দফায় ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নেওয়ার কথাও ফোনালাপে উঠে এসেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা রেকর্ড অনুযায়ী, ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরকে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে শোনা যায়। জবাবে জুনাইদ আহমেদ পলক বিষয়টি শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে করার কথা জানান। পরে কাদেরও শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পলক-কাদেরের ফোনালাপের অনুলিপিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
পলক: ভাই, আসসালামু আলাইকুম। ভাই, আসসালামু আলাইকুম। জি, আসসালামু আলাইকুম ভাই। পলক বলছি।
কাদের: নেটটা একটু স্লো করে দাও।
পলক: জি।
কাদের: ইন্টারনেট।
পলক: একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?
কাদের: নিয়ে নাও।
পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি, আচ্ছা ঠিক আছে।
কাদের: অনেকে আমাকে বলতেছে তো বিষয়গুলো...
পলক: হ্যাঁ, একটু ওই যে মানে বলা আছে তো যে উনি না বললে... মানে...
কাদের: না না, উনাকে জিজ্ঞেস করেই বলবা।
পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি। জি স্যার, জি স্যার। জি, আসসালামু আলাইকুম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক চলছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তার সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন : বন্যার্তদের ঘরের চাবি তুলে দিতে বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রী
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের আরেকটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। ওই ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
এই মামলায় আসামি সাতজন। ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
