শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে, জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে বা কী প্রক্রিয়ায় দেশটিতে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা বিচার প্রক্রিয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে—এমন প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কি না কিংবা তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানগত স্ট্যাটাস কী, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
আরও পড়ুন: শাপলা চত্বরের মামলায় হাসিনাসহ ৪১ আসামির শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানে না শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন। তাই ভারতীয় আদালতের অনুমতির বিষয়টি কী অর্থে বলা হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক আছে কি না, জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি জানান, ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমেদকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের শিলংয়ে তাকে পাওয়া যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি খালাস পান এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
এদিকে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই আন্দোলনে আসামিদের ভূমিকার কারণে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব অপরাধের দায় আসামিদের নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
