আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর আজ রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেবেন।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায়ের দিন পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। গত ২৪ আগস্ট এ মামলায় উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হয়।
আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
মাগুরা সদর উপজেলায় ঘটে শিশু আছিয়ার ওপর ধর্ষণ ও হামলার মর্মান্তিক ঘটনা। রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে আট বছর বয়সী আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যারও চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলে কে দায়িত্ব পালন করবেন?
পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এর এক বছর আগে, গত বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। তারা হলেন- নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো মামলায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করার আগে অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে এ মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে।
আজ সেই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।
