পাল্টা হামলা
জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিলো ইরান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। রোববার দিবাগত রাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জর্ডানের কিং হোসেন ও আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। আইআরজিসি এ হামলাকে ‘আগ্রাসী শক্তির জন্য শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনীর দাবি, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা আটটি ক্ষেপণাস্তরই ভূপাতিত করা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলায় মার্কিন বাহিনীর প্রযুক্তিগত ও কারিগরি অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান।
বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার প্রচেষ্টা চালিয়ে শত্রুপক্ষ তাদের হতাশা কাটাতে পারবে না। আগ্রাসন ও অপরাধের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব নয়। ইরানের ওপর প্রতিটি হামলার জবাব আরও শক্তিশালী ও বিধ্বংসীভাবে দেওয়া হবে।
এর আগে রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এক মাসেরও বেশি সময় পর ইরানে এটিই ছিল মার্কিন বাহিনীর প্রথম এ ধরনের হামলা।
মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন জানায়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে রকেটের মাধ্যমে মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় লারাক দ্বীপে অভিযান চালানো হয়। মার্কিন বাহিনী দ্বীপটিতে থাকা ইরানের দুটি লঞ্চার বা উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় সেনা ও বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে দাবি করে এর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল আইআরজিসি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লারাক দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত। বিশ্বে নৌ-পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
