দুই বছরের সাজা
বিদিশার আপিল, মিলেনি জামিন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
ফ্ল্যাট বিক্রিতে প্রতারণার অভিযোগে দুই বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। তবে আপিল গ্রহণ করলেও বুধবার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির। ফলে বিদিশাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
এদিন বিদিশার পক্ষে ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) এর বিরোধিতা করেন।
বিদিশার আইনজীবী মো. মাহমুদুল কবির বলেন, আপিল গ্রহণের পাশাপাশি জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানিতে বিদিশা নারী এবং তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এ বিষয়গুলো তুলে ধরে জামিন চাওয়া হয়। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন। আইনজীবী মনিরুজ্জামান সবুজ জানান, তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।
গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেন। তিনি পলাতক থাকায় সেদিন তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
আরও পড়ুন: ছিনতাইয়ের কবলে শিক্ষিকা রনজিলার মৃত্যু: গ্রেপ্তার ৩ জন রিমান্ডে
২৫ আগস্ট রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আপিলের শর্তে জামিন চাওয়া হয়। তবে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
যে অভিযোগে মামলা
বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালে বিদিশা ৮০ লাখ টাকায় একটি ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি করেন। পরে তার মনোনীত ব্যক্তি আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডারের মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন মোশাররফ। এ নিয়ে বায়নানামাও করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। তবে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়।
বাদীর অভিযোগ, এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা বা ফ্ল্যাট কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি। এমনকি তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
