তেজগাঁও মসজিদে গ্রেপ্তার ১২ জন ৩ দিনের রিমান্ডে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠক ও জঙ্গি কার্যক্রমের সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ ১২ আসামির প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামিরা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন এবং জিহাদের জন্য লোক সংগ্রহ করছিলেন। তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসদ-উর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক তেজগাঁওয়ের কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে নিয়মিত অভিযানে গ্রেপ্তার পাঁচ শতাধিক
পরে ১৮ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী কথাবার্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, নাশকতার উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), মো. রাস্মি মিয়া (২৯), মো. কামিছুল ইসলাম (৩৬), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মো. মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
সিটিটিসি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন। এ ছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে যা বলা হয়েছে
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণও করা দরকার।
এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং উগ্রবাদী কার্যক্রমে অর্থের উৎস ও অর্থদাতাদের বিষয়ে তথ্য জানতেও আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান।
শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
