ঘরোয়া কেরাটিন মাস্কে ফিরবে চুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চুলের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে কেরাটিনের ওপর। এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক প্রোটিন, যা চুলকে শক্তিশালী, মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে নিয়মিত হেয়ার কালার, স্ট্রেইটেনিং, কার্লিং, ব্লো-ড্রাই কিংবা অতিরিক্ত হিট স্টাইলিংয়ের কারণে চুলের স্বাভাবিক কেরাটিন ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে, পাশাপাশি ভেঙে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়।
এ সমস্যা সমাধানে অনেকেই পার্লারে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করান। যদিও এতে কিছুদিনের জন্য চুল মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখায়, তবে এর প্রভাব স্থায়ী নয়। উপরন্তু, ট্রিটমেন্টে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদে চুলের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরেই কেরাটিনসমৃদ্ধ হেয়ার মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করা হতে পারে নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প।
ডিম ও টক দইয়ের পুষ্টিকর হেয়ার মাস্ক
ডিমে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন চুলের কেরাটিন গঠনে সহায়তা করে। অন্যদিকে টক দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি চুলকে নরম ও ঝলমলে করে তোলে।
একটি ডিমের সঙ্গে চার টেবিল চামচ টক দই ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত পুরো চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। পরে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে চুল আরো স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও মসৃণ হয়ে উঠবে।
আরো পড়ুন : মেঘলা আবহাওয়াতেও যে কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন
ভাত ও নারিকেলের দুধের কেরাটিন মাস্ক
বাড়িতে থাকা বেঁচে যাওয়া ভাত দিয়েও তৈরি করা যায় কার্যকর হেয়ার মাস্ক। ভাতের অ্যামিনো অ্যাসিড এবং নারিকেলের দুধের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ক্ষতিগ্রস্ত চুল পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
অল্প পরিমাণ ভাতের সঙ্গে চার চা চামচ নারিকেলের দুধ, একটি ডিমের সাদা অংশ এবং এক চা চামচ অলিভ অয়েল ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর পুরো চুলে লাগিয়ে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে চুল নরম হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতাও ফিরে আসবে।
কলা ও মধুর প্রাকৃতিক কন্ডিশনিং মাস্ক
শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের জন্য কলা ও মধুর মিশ্রণ বেশ উপকারী। কলায় থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন ও প্রাকৃতিক তেল চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে। মধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে এবং অলিভ অয়েল চুলকে আরো কোমল ও মসৃণ করে।
একটি পাকা কলা চটকে তার সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পুরো চুলে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের রুক্ষভাব কমে এবং ফিরে আসে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।
খাদ্যাভ্যাসেও থাকতে হবে যত্ন
শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা নয়, চুলের কেরাটিন তৈরিতে সুষম খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ডিম, মাছ, দুধ, ডাল, বাদাম ও বিভিন্ন বীজজাতীয় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং এড়িয়ে চললে চুল দীর্ঘদিন সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকবে।
প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্ক ব্যবহারের ফল একদিনে দেখা না গেলেও নিয়মিত পরিচর্যা ও ধৈর্যের মাধ্যমে ধীরে ধীরে চুলের হারিয়ে যাওয়া কেরাটিন ফিরে আসে। ফলে চুল হয়ে ওঠে আরো মজবুত, কোমল, উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
