মেঘলা আবহাওয়াতেও যে কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
অনেকের ধারণা, আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে বা সূর্যের দেখা না মিললে সানস্ক্রিন ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। তবে ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ, মেঘলা দিনেও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি ত্বকে পৌঁছাতে পারে এবং ধীরে ধীরে নানা ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘ সূর্যের তাপ ও দৃশ্যমান আলো কিছুটা কমিয়ে দিলেও অতিবেগুনি রশ্মির বড় একটি অংশ সহজেই মেঘ ভেদ করে পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে ইউভিএ রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কোলাজেনের ক্ষতি করে। এর ফলে অকাল বার্ধক্য, বলিরেখা, ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়া এবং পিগমেন্টেশনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বর্ষাকালে অনেকেই মনে করেন, বাইরে কম বের হওয়ায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবে জানালার কাচ দিয়ে প্রবেশ করা সূর্যের আলো কিংবা গাড়িতে চলাচলের সময়ও ত্বক ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে আসে। এসব ক্ষতির প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা না গেলেও দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আরো পড়ুন : ওজন নিয়ন্ত্রণে ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার গুরুত্ব
আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, এসপিএফযুক্ত ময়েশ্চারাইজার বা মেকআপ ব্যবহার করলেই পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এসব পণ্যে থাকা এসপিএফ সাধারণত পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আলাদাভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ত্বকের সুরক্ষায় অন্তত SPF 30 এবং Broad Spectrum সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানো উচিত। আর বর্ষাকালে বৃষ্টি ও অতিরিক্ত ঘামের কারণে ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট (পানিরোধী) সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে সুরক্ষা আরো কার্যকর হয়।
নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারে শুধু রোদে পোড়া থেকে নয়, দীর্ঘমেয়াদে কালচে দাগ, অসম ত্বকের রং, অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাই আবহাওয়া যেমনই থাকুক, প্রতিদিনের স্কিনকেয়ার রুটিনে সানস্ক্রিনকে অপরিহার্য একটি ধাপ হিসেবে রাখা উচিত।
