যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০১ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত তাদের পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত রাখছে। খবর আল জাজিরার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ইরান প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে।
এদিকে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের অবস্থান পরে প্রকাশ করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টা আগেও ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ইরানকে সতর্ক করেছিলেন যে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। হঠাৎ এই অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
আরো পড়ুন : ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে সাবেক মার্কিন সেনাদের বিক্ষোভ, আটক ৬০
অন্যদিকে, শেহবাজ শরীফ যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইসলামাবাদ শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি পাকিস্তানে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি। ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় উত্তেজনা বজায় রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই অবরোধকে ‘যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন কমানোর দাবি জানাচ্ছে। তবে তেহরান তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার থেকে সরে আসতে রাজি নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো মূলত কূটনৈতিক চাপ মোকাবিলার একটি কৌশল হতে পারে। স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিন মনে করেন, যুদ্ধ প্রত্যাশামতো অগ্রসর হয়নি এবং বর্তমান বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রকে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ইস্যুতে মতবিরোধ থেকেই যাচ্ছে। ফলে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। এখন নজর রয়েছে সম্ভাব্য আলোচনার দিকে, যেখানে নির্ধারিত হতে পারে পরবর্তী পথ।
