শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো সেই দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় অভিযুক্ত ছাত্রশিবিরের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এক আদেশে এই দুই সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরের নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায়।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাদের পদ বাতিল করা হয়।
পদ হারানো দুই আইনজীবী হলেন, কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম। তারা উভয়ে শিবির নেতা জিসানের পক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন।
এ আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, এ অনুবিভাগের গত ২৯-১০-২০২৪ তারিখের নং-সলিসিটর/জিপি-পিপি (কুমিল্লা) ২৫/২০২৪ (অংশ-ক) -১৫১ সংখ্যক স্মারকমূলে কুমিল্লা জেলার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত (১) মনির হোসেন পাটোয়ারী, পিতা: মৃত আইয়ুব আলী ও (২) সাইদুল ইসলাম, পিতা: মৃত আলী আশ্রাফ এর নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো। এ আদেশ অনতিবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
পাবলিক প্রসিকিউটর কাইমুল হক রিংকু বলেন, ‘আমাকে কিছুক্ষণ আগে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ আদেশের কপি পাঠানো হয়েছে। তারা উভয়ে সরকারি আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হয়ে রাষ্ট্রের বিপক্ষে আসামির পক্ষে কেউ যেতে পারে না।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় চাইলে যেকোনো সময় যে কারো নিয়োগ বাতিল করতে পারে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে দুজন এপিপির নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে সে দুইজন আইনজীবী আসামির পক্ষে ওকালতনামা নেননি। তারা আসামি জিসানের পক্ষে আদালতের সামনে থেকে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেছেন। এছাড়া জিসানের পক্ষে ওকালতি করেছেন তার নিজের ভাই। এ দুজন পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন।’
পদ হারানো এপিপি মনির হোসেন পাটোয়ারী ও সাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
