শিশু নন্দিনী হত্যা
দ্রুততম সময়ে চার্জশিট ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই পৈশাচিক অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের এমন কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করা হবে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিহত শিশু নন্দিনীর শোকার্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে যান মন্ত্রী। সেখানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানানোর পর উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, দেশের চলমান জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ব্যস্ত থাকার মাঝেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অবিলম্বে শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নেই আজ স্থানীয় তিনজন সংসদ সদস্য এবং জেলার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এই প্রত্যন্ত এলাকায় ছুটে এসেছেন।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে মূল আসামিকে ইতিমধ্যেই আইনের আওতায় এনেছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানতে পেরেছি। এখন আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ডাক্তারি প্রতিবেদন পাওয়ার পরই অতি দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে, যাতে কোনো বিলম্ব ছাড়াই বিচারকাজ সম্পন্ন করা যায়। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, যারা সাত বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে হত্যা করতে পারে, তারা আর যাই হোক মানুষ নামের যোগ্য নয়; তারা মূলত সমাজ ও মানবতার শত্রু।
তদন্ত ও পরবর্তী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে মন্ত্রী আরও বলেন, ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা সফলভাবে আসামিকে গ্রেপ্তার করে ফিরছিলেন। কিন্তু একটি শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কার উসকানিতে বা কাদের ইন্ধনে প্রশাসনের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মব বা গণপিটুনির মতো পরিস্থিতি তৈরি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া আরেকটি পৃথক ও গুরুতর অপরাধ। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নিরপরাধ সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় হয়রানির শিকার হবেন না, তারা নিশ্চিন্তে নিজেদের ঘরে থাকবেন। তবে যারা অপরাধী এবং যারা প্রশাসনকে আক্রমণ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ির নিকটবর্তী একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে ৭ বছর বয়সী শিশু নন্দিনীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় বিধান চন্দ্র নামের এক আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, যে পরবর্তীতে নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
