কী কারণে স্থগিত হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পর মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানও ডিজিটালি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সম্পাদনের পর শান্তি ফেরাতে পরবর্তী পদক্ষেপ ও করণীয় সম্পর্কে সরাসরি আলোচনায় বসার কথা তেহরান ও ওয়াশিংটনের।
শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরাসরি বৈঠকের বসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের সঙ্গে প্রথম দফা প্রত্যক্ষ ইসলামাবাদ শান্তি সংলাপে মার্কিন আলোচক দলের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। সেসময় ইরানি পক্ষের আলোচক দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ভ্যান্সের আকস্মিক সফর স্থগিতের বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘এই আলোচনার কার্যপদ্ধতি কখনোই সহজ বা আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না। আপাতত ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে রওনা হচ্ছেন না।’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার ১৪ দফা চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদলের সুইজারল্যান্ড সফর সম্পর্কে ‘কিছুই নিশ্চিত করা হয়নি’। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘যত দ্রুত সম্ভব প্রযুক্তিগত আলোচনা’ শুরু করার জন্য উন্মুখ।
গার্ডিয়ান ও আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তি-পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। কারণ, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ চার ইসরায়েলি সৈন্যকে হত্যা করেছে এবং দক্ষিণ লেবাননে প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর চলা এই হামলায় ১৮ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের একটি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে হামলা চালানো হয়েছে। প্রায় এক ডজন ভিন্ন ভিন্ন স্থানে চালানো হামলার প্রধান কেন্দ্র ছিল আল-শারকিয়াহ ও হারুফ শহর।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের চালানো রাতভর হামলায় হিজবুল্লাহর ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং গোষ্ঠীটির কয়েক ডজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। হিজবুল্লাহর হামলায় নিজেদের তিনজন সৈন্য নিহত হওয়ার খবরও জানিয়েছে আইডিএফ।
সর্বশেষ আপডেটে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাবাতিয়া এলাকাসহ দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য অংশে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে এবং এতে হিজবুল্লাহর যোদ্ধা, কমান্ড সেন্টার, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে দুদিন আগে স্বাক্ষরিত চুক্তি। কারণ সংঘাত নিরসনে ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করার বিষয়টি অন্যতম। লেবানন প্রসঙ্গকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে গণ্য করে ইরান।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় তেহরানের ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইরানের জন্য এই অলঙ্ঘনীয় সীমাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় তেহরানের ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইরানের জন্য এই অলঙ্ঘনীয় সীমাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, গালিবাফ বলেছেন, ‘পূর্ববর্তী আলোচনাজুড়ে আমরা যেমনটা দেখিয়েছি, আমরা প্রতিষ্ঠিত শর্তাবলি ও অলঙ্ঘনীয় সীমা মেনে চলতে এবং ইরানি জাতির স্বার্থ রক্ষায় অবিচল থাকব।’
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শত্রু যদি তার দাবিতে বাড়াবাড়ি করে, তবে আমরা প্রমাণ করেছি যে আমরা পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত এবং যে কোনো কড়া জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না।’
