ইরানে ফের ভয়াবহ মার্কিন হামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আবারও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান তদারককারী সংস্থা ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড’ (সেন্টকম) জানিয়েছে, জাহাজে হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের দাবি, ইরানের কর্মকাণ্ড নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেন্টকমের ঘোষণার পরপরই দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে মার্কিন হামলা হয়। এর পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে আবারও কোনো হামলা হলে তার জবাব আরো ব্যাপক হবে।
আরো পড়ুন : জব্দ করা অর্থ দিয়ে ইরানের জন্য গম-ভুট্টা কিনবেন ট্রাম্প
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে পৌঁছানোর শর্ত ছিল। তবে যুদ্ধ শুরুর পরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি, সার ও অন্যান্য পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরভিত্তিক বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়। এ ঘটনাকে সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে জাহাজে হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধারের অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘ। যদিও হামলার দায় স্বীকার করেনি তেহরান। তবে ইরান আগেই তাদের অনুমতি ছাড়া এ নৌপথ ব্যবহার না করার জন্য বারবার সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল।
এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওমান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
ওমান নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে নৌ-চলাচল সচল রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই করিডোর চালু করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, হরমুজ প্রণালির প্রতি ওমান সালতানাতের দায়িত্ব এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব বিবেচনায় কোনো ধরনের ফি ছাড়াই এই অস্থায়ী করিডোর চালু করা হয়েছে। আইএমও ও সংশ্লিষ্ট ওমানি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে করিডোরটি ব্যবহার করা যাবে। এ পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
