ইরানে ফের হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন নেতানিয়াহু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
ইরানে আবারও হামলা চালানোর জন্য দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সরকারের নির্দেশ পেলেই নতুন সামরিক অভিযান শুরু করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “এ পর্যন্ত আমরা দু’বার ইরানে হামলা করেছি। ওই দুই অভিযানের মাধ্যমে ইসরায়েলকে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তৃতীয়বারও হামলা চালানো হবে। এ জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।” খবর আনাদোলু এজেন্সি ও ইন্ডিয়া টুডের।
২০২৫ সালের ৬ জুন জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) জানায়, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে তা দিয়ে সহজেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।
আইএইএর ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পাঁচ দিন পর, ১১ জুন রাতে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা ১২ দিন চলা অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অভিযানটি বন্ধ হয়।
আরো পড়ুন : মধ্যপ্রাচ্যে ফের বাড়ছে উত্তেজনা
এরপর একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে। তবে দুই দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ওই অভিযান থেকে সরিয়ে নেয়। এরপর থেকে ইসরায়েল মূলত লেবাননে সীমিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।
এদিকে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ইসলামাবাদ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।
নেতানিয়াহু আগেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি মেনে চলতে ইসরায়েল বাধ্য নয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেওয়ার পর এ বিষয়ে তিনি আর প্রকাশ্যে তেমন অগ্রসর হননি।
নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, “বিবি, সাবধানে কথা বলুন। নইলে খুব শিগগিরই আপনাকে একাই থাকতে হবে।”
