ইরানের সামরিক উপদেষ্টা
১৭ দিনের যুদ্ধে আমেরিকাকে কাঁপিয়ে দিয়েছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সাম্প্রতিক ১৭ দিনের সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি। তার ভাষায়, এই যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রকেও গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, এই সংঘাতকে ‘তৃতীয় যুদ্ধ’ বা ‘মহররমের ১৭ দিনের যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। তার দাবি, এ সংঘাতে ইরান শুধু আঞ্চলিক প্রতিপক্ষকেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেও কঠোর বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে।
রেজায়ি বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে যুদ্ধটি আকস্মিক মনে হলেও ইরানের জন্য এটি পূর্বানুমিত ছিল। তিনি দাবি করেন, এর আগেই এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে সরে এসে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সেই সমঝোতা লঙ্ঘন করে। তিনি আরও দাবি করেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চুক্তির বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রকাশ্যে চুক্তিতে সম্মতি দিলেও পরে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক এই কমান্ডার আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে নতুন একটি করিডোর তৈরির উদ্যোগ নেয় এবং এ বিষয়ে ইরানের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে। এর জবাবে ইরান কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটনকে সমঝোতায় ফিরে আসার বার্তা দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
রেজায়ির দাবি, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়ে সমঝোতা ভঙ্গ করে, যদিও ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি স্বীকৃত ছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পাল্টা হামলায় ইরাকি কুর্দিস্তান ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই দুটি ঘাঁটি থেকে সেনা ও সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বাধ্য হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
