জেমসের গানে নস্টালজিয়ায় ভাসল প্যারিস, উৎসবে মাতলেন প্রবাসীরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের প্যারিসের উপকণ্ঠ সারসেল শহরে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রাঙ্কো বাংলা সামার ফেস্ট ২০২৬’-এ হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মঞ্চ মাতালেন দেশের কিংবদন্তি রকশিল্পী নগর বাউলখ্যাত জেমস। তার একের পর এক জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন উপস্থিত দর্শকরা। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উচ্ছ্বাস, আবেগ আর নস্টালজিয়ার এক অনন্য মেলবন্ধন।
ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে রোববার (২ আগস্ট) সারসেল শহরের স্টাড এমিল জোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী ‘ফ্রাঙ্কো বাংলা সামার ফেস্ট ২০২৬’। অফিওরা ও শাহ গ্রুপের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে ছিল দেশীয় সংস্কৃতির নানা আয়োজন, সংগীত, পারিবারিক মিলনমেলা এবং প্রবাসীদের প্রাণের উৎসব।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর একে একে মঞ্চে পরিবেশনা করেন নেদারল্যান্ডস থেকে আগত শিল্পী নওশিন বিন্তি, জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘জলের গান’-এর রাহুল আনন্দ এবং স্থানীয় ব্যান্ড ‘এরর ৪০৪’। তাদের পরিবেশনায় দর্শকদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হলেও সবার অপেক্ষা ছিল নগর বাউল জেমসকে ঘিরে।
মঞ্চে উঠেই ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে’ গান দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন জেমস। এরপর বিরতিহীনভাবে পরিবেশন করেন তার অসংখ্য জনপ্রিয় গান। এর মধ্যে ছিল ‘দেওয়ানা’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কী দিয়া’, ‘মা’, ‘সুলতানা বিবিয়ানা’, ‘দুষ্ট ছেলের দল’, ‘লিখতে পারি না’, ‘খবর নিও না’, ‘বাবা’, ‘ওরে ওরে হাওয়া থাম না রে’, ‘বন্ধু আসছে বহুদিন পরে’ এবং ‘ভিগি ভিগি রাতে’সহ আরও অনেক শ্রোতাপ্রিয় গান। প্রতিটি গানের সঙ্গে হাজারো দর্শক কণ্ঠ মিলিয়ে গেয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন।
দীর্ঘদিন পর ফ্রান্সে জেমসের লাইভ কনসার্ট হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। প্যারিসসহ আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবে যোগ দেন অসংখ্য বাংলাদেশি। অনেকেই জাতীয় পতাকা হাতে এবং জেমসের গান গেয়ে উৎসবস্থলে আসেন।
কনসার্টে সারসেলসহ প্যারিসের আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি ছিল। অনুষ্ঠানে স্থানীয় মেয়র, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় অর্ধশত নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করেন।
সব মিলিয়ে ‘ফ্রাঙ্কো বাংলা সামার ফেস্ট ২০২৬’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আর সেই উৎসবের মধ্যমণি হয়ে নগর বাউল জেমস আবারও প্রমাণ করলেন, দেশ থেকে হাজার মাইল দূরেও বাংলা গানের প্রতি প্রবাসীদের ভালোবাসা আজও অটুট।
