এক রাতে তিন কৃষকের সাত গরু চুরি, আতঙ্কে খামারিরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এক রাতে তিন কৃষকের সাতটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দুটি ইউনিয়নের পৃথক এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ চোরচক্র এসব গরু নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছেৃ। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (৮ জুন) গভীর রাতে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর পূর্বপাড়া এবং মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চুরি হওয়া গরুগুলোর মোট মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।
ঘটনার পর চরহোসেনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, রাতের বেলা গরুগুলো দেখে ঘুমাতে যান আব্দুল মালেক। ভোরে গোয়ালঘরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সেখানে কোনো গরু নেই। পরে বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানো হলে তার ভাই আব্দুল খালেকও জানতে পারেন যে তার গোয়ালঘর থেকেও তিনটি গরু চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, চোরেরা তালা ভেঙে আব্দুল মালেকের তিনটি এবং আব্দুল খালেকের তিনটি গরু নিয়ে যায়। একই রাতে হারুয়া গ্রামের কৃষক রিপন মিয়ার একটি গরুও চুরি হয়, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
চুরির ঘটনায় স্থানীয় খামারি ও কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
আব্দুল খালেক বলেন, চুরি হওয়া গরুগুলোর মধ্যে দুটি ষাঁড় ও একটি গাভী ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি আশা করেছিলেন, গরুগুলো বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করবেন এবং সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করবেন। কিন্তু চুরির ঘটনায় তিনি এখন দিশেহারা।
অন্যদিকে আব্দুল মালেক জানান, তার একটি গাভী শিগগিরই বাচ্চা দেওয়ার কথা ছিল। এছাড়া আরও দুটি বকনা গাভী ছিল গোয়ালে। চুরি হওয়া তিনটি গরুর মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গরুগুলো লালন-পালন করেছিলেন। দুধ বিক্রির আয় দিয়ে পরিবারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটানোর পরিকল্পনা ছিল তার।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হাসান মিলন বলেন, গরুগুলো ছিল পরিবার দুটির প্রধান সম্পদ। চুরির ঘটনায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে এলাকার অন্য খামারিরাও নিজেদের সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, গরু চুরির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুরি হওয়া গরুগুলো উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
