রাষ্ট্রপতি হতে লাগবে যেসব যোগ্যতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাংবিধানিক যোগ্যতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং এ পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশে একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। একই অনুচ্ছেদের ৪৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে অবস্থান করবেন এবং সংবিধান ও আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোটার তালিকা প্রকাশের কিছুক্ষণ আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বা নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।
তফসিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আখতার আহমেদ আরও জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাংবিধানিক যোগ্যতা
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে- প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে তিনি পুনরায় এ পদে প্রার্থী হতে পারবেন না।
এ ছাড়া মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হিসেবে থাকতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক।
কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যাবে।
মনোনয়ন যাচাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যদি একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে।
সাধারণ নাগরিক কি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে পারেন?
সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নাগরিক সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রপতি হওয়ার সব সাংবিধানিক যোগ্যতা পূরণ করেন, তাহলে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে।
সাধারণত রাজনৈতিক দল, সংসদ সদস্য বা সংশ্লিষ্ট মহল থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হয়। অর্থাৎ, একজন সাধারণ নাগরিকের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ নয়। তবে তাকে সংসদ সদস্যদের সমর্থন অর্জন করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এমন কোনো নজির নেই।
