গারো পাহাড়
বাঁশঝাড় উজাড়ে বিপন্ন পরিবেশ, দুর্দিনে কারুশিল্পী
খোরশেদ আলম, শেরপুর
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
একসময় শেরপুরের গারো পাহাড়জুড়ে ছিল সবুজে ঘেরা বাঁশঝাড়। সেই বাঁশের ওপর নির্ভর করেই জীবিকা চলত হাজারো মানুষের। কিন্তু বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশ কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়ায় দ্রুত উজাড় হচ্ছে বাঁশঝাড়। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সংকটে পড়েছেন বাঁশশিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।
জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী, নকলা ও সদর উপজেলার ৫২টি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে একসময় প্রচুর বাঁশঝাড় ছিল। এসব বাঁশের ওপর নির্ভর করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, হিন্দু ও মুসলিমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বাঁশশিল্পে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা ডোল, ঝাড়ি, কোলা, চালুন, বুরুং, ঝাঁই, মোড়া, হাতপাখা, খালই, ধাড়িসহ বিভিন্ন বাঁশজাত পণ্য তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁশ ব্যবসায়ীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশ কিনে ট্রাকে করে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। নির্মাণকাজসহ নানা কাজে এসব বাঁশ ব্যবহার হচ্ছে। ফলে দ্রুত কমে যাচ্ছে বাঁশঝাড়। এর প্রভাব পড়েছে পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয় বাঁশশিল্পেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশঝাড় উজাড় হওয়ার পেছনে মানুষের অসচেতনতা, দারিদ্র্য, বাঁশঝাড় সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব এবং প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি অন্যতম কারণ। ফলে দিন দিন বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে গারো পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী বাঁশঝাড়।
পরিবেশবিদদের মতে, বাঁশঝাড়ের উপকারিতা সম্পর্কে মালিকদের সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে অপরিকল্পিতভাবে বাঁশ কাটার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা গেলে গারো পাহাড়ে আবারও বাঁশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবুল করিম বলেন, ‘বনের জমিতেও একসময় প্রচুর বাঁশঝাড় ছিল। দিন দিন সেগুলোও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।’
