হারিয়ে যাওয়া ফাইলগুলো গোপনীয় নয়: সচিব
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২০ পিএম
বিভাগীয় সচিব আলী নূর / ছবি : সংগৃহীত
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি নথি গায়েবের ঘটনা তদন্ত করছে ক্রাইম সিন ইউনিট। ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে আলামতও। হারিয়ে যাওয়া নথি সম্পর্কে বিভাগীয় সচিব আলী নূর বলেছেন, হারিয়ে যাওয়া ফাইলগুলো তেমন গোপনীয় নয়, তবে ফাইল হারিয়ে যাওয়াটাই বড় বিষয়। রবিবার (৩১ অক্টোবর) ক্রাইম সিন ইউনিটের তদন্ত শুরুর দিন সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি।
কী ধরনের ফাইল ছিল জানতে চাইলে সচিব বলেন, এগুলো ক্রয় সংক্রান্ত। এগুলো তেমন গোপনের কিছু নেই। প্রতিটা ফাইলের তথ্য আমাদের অন্য বিভাগেও আছে, আমাদের কম্পিউটারেও আছে, আমাদের ডিজি অফিসগুলোতেও আছে। এ নিয়ে তেমন সমস্যা না, কিন্তু মূল বিষয়টি হচ্ছে ফাইল মিসিং হওয়া। এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়। এটিই উদ্ধারের চেষ্টা করছি।
নথি গায়েবের ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের কাউকে সন্দেহ করা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, সন্দেহের বিষয়টা তো এখন বলাটা কঠিন। কারণ, আমরা তো সত্যিকারভাবেই আসলে জানি না, কে এ কাজ করেছে। আমি তো মনে করি যে, আমরা সবাই সন্দেহের মধ্যেই আছি। আমরা পুলিশকে সেভাবেই বলেছি। আপনারা সবাইকেই ইনক্লুড করবেন, যাতে আমরা তথ্যটা জানতে পারি, উদ্ধার করতে পারি।
করোনাকালীন সময়ে নানাকাণ্ডে আলোচিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েই ঘটেছে নথি গোপনের মতো ‘তুঘলকি কাণ্ড’। রাতের অন্ধকারে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে গায়েব হয়ে গেছে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ নথি। নিচতলার ২৯ নম্বর কক্ষে বুধবার (২৭ অক্টোবর) রাতে ঘটে এ ঘটনা।
পরের দিন বৃহসপতিবার (২৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হলে রোববার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে তদন্তে নামে সিআইডি। সংস্থাটির ক্রাইম সিন ইউনিট ২৯ নম্বর কক্ষের প্রতিটি অংশে তল্লাশি চালায়।
জানা যায়, বুধবার রাতে এ কক্ষের লকারে তালাবন্দি করে ফাইলগুলো রেখে যান কম্পিউটার অপারেটর জোসেফ। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তালা খুলে দেখতে পান ফাইলগুলো গায়েব। এ লকারের চাবি থাকে আরেক কম্পিউটার অপারেটর আয়েশার কাছেও।
কম্পিউটার অপারেটর আশেয়া আক্তার জানান, যাওয়ার আগে ফাইলগুলো রাখা হয়েছে, তখন তিনি দেখেন ১৭টা ফাইল-ই ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় সে আসে (জোসেফ)। বেলা ১২টার সময় একটা পত্র নিষ্পত্তির জন্য কেবিনেট খোলেন তখন দেখেতে পান ১৭টা ফাইল নেই। যুগ্ম সচিব প্রশাসন অধি শাখা ক্রয় সংগ্রহ ২, ক্রয় সংগ্রহ অধিশাখা এছাড়াও বিভিন্ন শাখার লোক এখানে বসে একটা রুমের ভেতর। এর আগে একটা ফাইল হারিয়ে ছিল লকডাকউনের আগস্টের মাসের ৮ তারিখে।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানান সিআইডির এসপি মো. কামরুজ্জামান।
তিনি আরও বলেন, এখনো কোনো মামলা হয়নি জিডি হয়েছে। ছায়া তদন্ত করা হচ্ছে আর ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এটা তদন্তের একটা অংশ। পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত জানানো যাবে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৬ কর্মচারীকে নিয়ে গেছে সিআইডি।
