×

জাতীয়

বিয়ানীবাজার কূপ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৪:০৫ পিএম

বিয়ানীবাজার কূপ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু

সোমবার সিলেট থেকে সন্ধা ৬টার সময় থেকে জাতীয় গ্রীড সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হচ্ছে আরও প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট থেকে জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইনে সোমবার সন্ধা ৬টার সময় থেকে যুক্ত হচ্ছে আরও ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সিলেটের বিয়ানীবাজার গ্যাসকেন্দ্রের ১ নম্বর কূপ থেকে এই গ্যাস সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হবে। যা চলমান গ্যাস সঙ্কট কিছুটা লাঘব সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা। পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বিয়ানীবাজারের ১ কূপ থেকে গত সেপ্টেম্বরে খনন কাজ শুরু করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) বেলা তিনটার দিকে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের (এসজিএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিজানুর রহমান বলেন, গ্যাসের চাপ পরীক্ষার (টেস্টিং) কাজ শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের জন্য কারিগরি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস সরবরাহ করার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে আজ সন্ধা থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। এ কূপ থেকে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা যাবে বলে জানান তিনি। সিলেটের বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের ২ নম্বর কূপ থেকে বর্তমানে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ হচ্ছে।

এসজিএফএল সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ডের ১ নম্বর কূপ থেকে ১৯৯১ সালে গ্যাস তোলা শুরু হয়। ২০১৪ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে আবার উত্তোলন শুরু হলেও ওই বছরের শেষ দিকে আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালের শুরু থেকেই কূপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এরপর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন (বাপেক্স) ওই কূপে অনুসন্ধানকাজ চালিয়ে গ্যাসের মজুত পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই কূপে নতুন করে পুনঃখননকাজ (ওয়ার্ক ওভার) শুরু হয়। কূপে গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিতের পর গত ১০ নভেম্বর থেকে গ্যাসের চাপ পরীক্ষা শেষে কূপ থেকে দ্রুত জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়।

বর্তমানে কূপের ৩ হাজার ২৫৪ মিটার গভীরে ৭০ বিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস মজুত আছে। গ্যাসের চাপ পরীক্ষার পর দেখা গেছে কূপটি দৈনিক ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম। তবে কারিগরি বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে দৈনিক আট মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এতে দৈনিক ১২৫ থেকে ১৩০ ব্যারেল কনডেন্স গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করছে এসজিএফএল।

দেশে গ্যাসসংকটের সময়ে এ কূপ থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস সরবরাহ একটি আনন্দের সংবাদ উল্লেখ করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ডের ১ নম্বর কূপে গ্যাস পাওয়া পর আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত শেষ করে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। এর জন্য আমরা সফলভাবে কাজটি দ্রুত করতে পেরেছি। এ ছাড়া বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় থ্রিডি সেসমিক জরিপ চলছে। সেই জরিপ থেকে নতুন গ্যাস ফিল্ড পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

বর্তমানে এসজিএফএলের আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র আছে। এগুলো হলো হরিপুর গ্যাস ফিল্ড, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, ছাতক গ্যাস ফিল্ড, কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ড। এর মধ্যে ছাতক গ্যাস ফিল্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। বাকিগুলোর ১২টি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৯১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

মিজানুর রহমান বলেন, ২০২৫ সাল নাগাদ দেশের সকল কোম্পানি প্রায় ৪৬ টি কূপ খনন (ওয়ার্ক ওভার) এর মাধ্যেমে ৬১৮ মিলিয়ন গ্যাস বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এসজিএফএলের আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র আছে। এগুলো হলো হরিপুর গ্যাস ফিল্ড, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, ছাতক গ্যাস ফিল্ড, কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ড। এর মধ্যে ছাতক গ্যাস ফিল্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। বাকিগুলোর ১২টি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৯১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

প্রাথমিকে সমন্বিত নীতিমালার খসড়া ১৭ আগস্টের মধ্যে: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিকে সমন্বিত নীতিমালার খসড়া ১৭ আগস্টের মধ্যে: ববি হাজ্জাজ

হরমুজে মাইনের আঘাতে ট্যাংকারে বিস্ফোরণ

হরমুজে মাইনের আঘাতে ট্যাংকারে বিস্ফোরণ

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন নীতিমালা জারি

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন নীতিমালা জারি

আ.লীগের পথ অনুসরণ করলে মানুষ আমাদের বিশ্বাস করবে না

এ্যানি আ.লীগের পথ অনুসরণ করলে মানুষ আমাদের বিশ্বাস করবে না

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App