নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর আগ্রহ দেখিয়েছে অনেক দেশ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৩, ১০:১৩ পিএম
সেহেলী সাবরীন
অনেক দেশ জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক সেহেলী সাবরীন। বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানকে কীভাবে দেখছে- এই প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় নির্বাচন বিষয়টি থাকে। তারা যখন এ নিয়ে আলোচনায় করেছে, আমরা আমাদের নির্বাচনী পদ্ধতির বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। অনেক দেশ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন যোগাযোগ রাখছে।
কোনো বক্তব্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না বলেও জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর র্যাব ও এর কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের মন্তব্য বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে সময়টি দেখতে হবে, বক্তব্যগুলো কবে এসেছে, আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক কবে হয়েছে। আমার মনে হয় না কোনো প্রভাব ফেলবে। এ বক্তব্যের পরও বাংলাদেশ বৈঠক করে এসেছে। আমাদের সব এজেন্ডা নিয়ে খুব সুন্দরভাবে আলোচনা করে এসেছি।
র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে কাজ চলছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রত্যাশা করি যুক্তরাষ্ট্র প্রক্রিয়াটি দ্রুত করবে এবং আমরা সিদ্ধান্ত পাব।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) নিয়ে জাতিসংঘের সুপারিশগুলো আমলে নেবে কিনা প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন বলেন, বাংলাদেশে আইন সংসদে আলোচনার মাধ্যমে প্রণয়ন হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশ ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে ডিএসএ নিয়ে সুপারিশ পাচ্ছি। আমাদের আইন প্রণেতারা যদি মনে করেন কোনো আইনের সংশোধন প্রয়োজন, তখনই তারা বিবেচনা করে আইন সংশোধন করবেন।
ডিএসএ নিয়ে জাতিসংঘের সুপারিশগুলোর বিষয়ে অপর এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, যারাই সুপারিশ করছে, সব সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে কিভাবে কাজ করা যায় তা দেখছে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর নিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২৫-২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর করবেন। এ সফরে ৮-১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি ও সমঝোতাগুলো চূড়ান্ত করতে দুই দেশ কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জিএসপি ফেরত পেয়ে ডিএফসি অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে সেহেলী সাবরীন বলেন, ঢাকা-ওয়াশিংটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জিএসপি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জিএসপি বিষয়টি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সংলাপে আলোচনা হয়ে থাকে। এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পে কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকের স্বার্থসুরক্ষার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত করেছিল। এরপর থেকে ক্রমাগতভাবে ভাবে কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের কল্যাণে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আর এ বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
সেহেলী সাবরীন বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন আগামী ১২ মে ঢাকায় ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’ আয়োজন করেছে। এটি ষষ্ঠ সম্মেলন। আগামী ১২ মে প্রধানমন্ত্রী এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, মন্ত্রীরা, বহুপাক্ষিক সংস্থাসমূহের প্রধান, গবেষকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এরই মধ্যে মরিশাসের রাষ্ট্রপতি, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানের ভাইস মিনিস্টার সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। আরো অংশগ্রহণ বাংলাদেশ আশা করছে।
